1. info@businessstdiobd.top : admin :
শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১, ০২:২৭ পূর্বাহ্ন

অসহনীয় যন্ত্রণার আরেক নাম মাইগ্রেন!

কাজের চাপে কিংবা মানসিক চাপে অনেকেরই মাথাব্যথা হয়। প্যারাসিটামল খেয়ে নিলে বা একটু বিশ্রামে সেটি ভাল হয়ে যায় বেশিরভাগ সময়। কিন্তু মাইগ্রেন নামের ভয়ানক মাথাব্যথা মোটেও সাধারণ মাথাব্যথা নয়। অথচ সাধারণ মাথাব্যথা মনে করে অনেকেই দিনের পর দিন মাইগ্রেনকে অবহেলা করেন। চলুন জেনে নেয়া যাক মাইগ্রেন সম্পর্কে জরুরী কিছু তথ্য।

মাইগ্রেন কী: মাইগ্রেন মূলত এক ধরনের মাথাব্যথা। তবে সাধারণ মাথাব্যথার থেকে মাইগ্রেনের পার্থক্য হলো মাইগ্রেনে ব্যথা হয় মাথার একদিকে। অর্থাৎ মাইগ্রেনে আক্রান্ত হলে আপনার মাথার বাম কিংবা ডানদিকে ব্যথা হবে, আর অন্যদিকে তেমন কোন ব্যথাই অনুভব করবেন না। মাইগ্রেনের ব্যথা হলে শব্দ, আলো এবং গন্ধের প্রতি সহনশীলতা কমে যায়। খুব অল্প শব্দ বা আলোয় অসহ্য অনুভূতি হয়।

কাদের হয়-কখন হয়?: বয়োসন্ধির আগে মেয়েদের থেকে ছেলেদের মাইগ্রেন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকলেও পরবর্তীতে ছেলেদের থেকে ২-৩ গুণ বেশি মেয়েদের মাইগ্রেন হয়। আবার অনেক মেয়েদের ক্ষেত্রে রজঃচক্র (menstrual cycle) শেষ হওয়ার পর মাইগ্রেনে আক্রান্ত হওয়ার হার অনেক কমে যায় বলেও দেখা গেছে। তবে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে মধ্য বয়সে (৩৫-৪০ বছর) মাইগ্রেনে আক্রান্ত হওয়ার হার অন্য বয়সের থেকে অনেক বেশি।

মাইগ্রেনের কারণ: ঠিক কী কারণে মাইগ্রেন হয় তা পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে এটি বংশগত বা অজ্ঞাত কোন কারণে হতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় আক্রান্ত ব্যক্তির বংশে মাইগ্রেনে আক্রান্ত অন্য কেউ রয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে হরমোনের প্রভাব রয়েছে বলেও কিছু গবেষণায় বলা হয়েছে। এই কারণেই বিভিন্ন বয়সে নারী-পুরুষের আক্রান্ত হওয়ার হারের পার্থক্য দেখা দেয়।

এর বাইরেও বিকট শব্দ, তীব্র আলো, প্রচন্ড গরম কিংবা বিশেষ কিছু খাবারের কারণেও মাইগ্রেন হতে পারে। জন্মবিরতিকরণ ওষুধ, দুশ্চিন্তা, অতিরিক্ত ভ্রমণ, ব্যায়াম, অনিদ্রা, অনেকক্ষণ টিভি দেখা, দীর্ঘসময় কম্পিউটারে কাজ করা, মোবাইলে কথা বলা ইত্যাদি কারণেও এ রোগ হতে পারে।

লক্ষণসমূহ: এ মাথাব্যথা শুরু হলে তা কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। মাইগ্রেনের মূল লক্ষণ মাথার এক দিকে ব্যথা হলেও ব্যথা শুরুর আগে থেকেই কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়। অনেকের চোখে আলোর ঝলকানি দেখা দিয়ে শুরু হয় তারপর ধীরে ধীরে ব্যথা বাড়তে থাকে।

আবার মাইগ্র্রেনের তীব্রতার ওপরও লক্ষণের পার্থক্য দেখা যায়। তবে সবার এ রকম হয় না। মাইগ্রেনের সাধারণ কিছু লক্ষণ- আলো বা শব্দের প্রতি সহনশীলতায় পরিবর্তন, চোখের পেছন দিকে ব্যথা, বমি বমি ভাব, বমি।

চিকিৎসা: মাইগ্রেন সমস্যা চিরতরে দূর করার কোন উপায় এখনও আবিষ্কার হয়নি। তবে ব্যথা হলে তা কমানোর জন্য বেশ কিছু ওষুধ রয়েছে। সাধারণ প্যারাসিটামলেও অনেকের ব্যথা কমে যায়, তবে ব্যথার তীব্রতা অনুযায়ী এসপিরিন, ডাইক্লোফেনাক, আইবুপ্রোফেন জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা হয়।

ব্যথার তীব্রতা অনুযায়ী ওষুধের ধরন ও মাত্রা পরিবর্তন করা হয়। বমি ভাব নিয়ন্ত্রণ করার জন্য স্টেমেটিল বা ভার্গন জাতীয় ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। তবে কোন ওষুধ খাওয়া উচিত সে ব্যাপারে চিকিৎসকের পরামর্শ অবশ্যই নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কখনই কোন ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়। মাইগ্র্রেনের ব্যথা হলে কোন ওষুধ খেতে হবে তা সাধারণত চিকিৎসক আগেই বলে দেন। সে অনুযায়ী চললেই হবে।

তবে ওষুধের পাশাপাশি মাইগ্র্রেনের ব্যথার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে যথাসম্ভব অন্ধকার ও শব্দবিহীন পরিবেশে ঘুমানো, অন্তত কয়েক ঘণ্টা। যেহেতু মাইগ্র্রেনের ব্যথায় আলো ও শব্দের প্রতি সহনশীলতা অনেক কমে যায়, সেক্ষেত্রে খুব অল্প শব্দ বা আলোতেও ব্যথার তীব্রতা বেড়ে যেতে পারে। সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তথ্যসূত্র: জনকন্ঠ।

আরো পড়ুন
© All rights reserved © 2019 Business Studio
Theme Developed BY Desig Host BD