1. info@businessstdiobd.top : admin :
মঙ্গলবার, ০২ মার্চ ২০২১, ০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন




উদ্যোগ ও উদ্যোক্তা; সাহসী হচ্ছে এদেশের তরুণেরা!

বাংলাদেশে উদ্যোক্তার ইতিহাস বেশি দিনের নয়। জন্মলগ্নে বাংলাদেশের অর্থনীতি ছিল কৃষিনির্ভর। সর্বোচ্চ কর্মসংস্থান হতো কৃষি খাত থেকে। পাকিস্তান আমলে অধিকাংশ ব্যবসাই ছিল পশ্চিম পাকিস্তানিদের দখলে। স্বাধিকার আন্দোলনের সময় ২২ পরিবারের হাতে সম্পদ কেন্দ্রীভূত হওয়ার কথা শুনেছি, যার অধিকাংশ পরিবার পশ্চিম পাকিস্তানের।

পূর্ব পাকিস্তানে এ কে খান, জহুরুল ইসলাম ইত্যাদি গুটিকয় ব্যবসায়ী সংগ্রাম করছেন। ব্যাংক, বীমা, শিল্প-কারখানা, বড় বড় আমদানিসহ অধিকাংশ ব্যবসা পশ্চিম পাকিস্তানিদের আওতায়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ব্যবসাক্ষেত্রে বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি হলো। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ। খাদ্যশস্যসহ অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য আমদানি করতে হতো।

নিয়ন্ত্রিত অর্থনীতির কাল তখন। আমদানির জন্য প্রয়োজন লাইসেন্স পারমিটের। অনেক ব্যবসায়ীর হাতেখড়ি আমদানির মাধ্যমে। এ ব্যবসায় ঝুঁকি অনেক কম। সবচেয়ে বেশি জরুরি সম্পর্ক বা কানেকশন। সেটা হতে পারে আত্মীয়তার, বন্ধুত্বের বা দলীয় রাজনৈতিক। আবার সম্পর্ক না থাকলেও যে দরজা বন্ধ হয়ে যেত, তা নয়। সম্পর্ক গড়ে নেয়া যেত, রিস্তার বদলে রেস্তর বদৌলতে।

পুঁজিও যে খুব বেশি লাগত তা নয়। কারণ পণ্য আমদানি না করেই কাগজ (পারমিট বা এলসি) বিক্রি করে দেয়া যেত। একবার নয়, কয়েকবার বিক্রি হতো। প্রতিবার হাত বদলে মুনাফা যোগ হতো, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ঘাড়ে চাপত। দ্রব্যের এত অভাব, উচ্চমূল্যে না কিনে কোনো উপায় ছিল না।

এমনকি মূল্যটা যে উচ্চ, তা বোঝারও উপায় ছিল না। বাজার তো কয়েকজনের হাতে নিয়ন্ত্রিত। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালর্ভাট নির্মাণ করা প্রয়োজন। এ কাজ পাওয়ার জন্য প্রয়োজন টেন্ডার জেতা। সেখানেও পরিচিতির কদর অথবা সেলামি। নেবে আর দেবে, মেলাবে মিলিবে। অধিকাংশ শিল্প, কল-কারখানা ছিল পশ্চিম পাকিস্তানিদের। তারা চলে যাওয়ায় সরকার জাতীয়করণ করে নিল।

শিল্প চালানোর অভিজ্ঞতা আমাদের ছিল না। তাছাড়া তৈরি করার চেয়ে আমদানি করা ছিল কম ঝুঁকির ও বেশি লাভের। লোকজনের বিদেশী জিনিসে আগ্রহ বেশি। শিল্প তাই গড়ে উঠছিল না। বরং সরকারি কল-কারখানা দুর্নীতি ও অদক্ষতার কারণে লোকসান দিচ্ছিল। কিছু কিছু উদ্যোক্তা সেবা খাতে নামছিলেন।

সত্তরের দশকে ইন্ডেন্টিং ব্যবসা খুব জমজমাট। আমদানিনির্ভরতার কারণেই ইন্ডেন্টিং ব্যবসার এত সমাদর। কাজের অভাবে সত্তরের দশকের শেষ দিকে চাকরি বা কর্মসংস্থানের জন্য লোকজন বিদেশে যাওয়া শুরু করল। মধ্যপ্রাচ্যে। ম্যানপাওয়ার বা আদম ব্যবসা জমজমাট। যাদের সামর্থ্য আছে, তারা সন্তানদের বিদেশ পাঠাত উচ্চশিক্ষার জন্য।

জনশক্তি রফতানি ও ছাত্রদের বিদেশ গমনের হেতু একটা ব্যবসা চাঙ্গা হলো, ট্রাভেল এজেন্সি। ২০১৬ সালে সেবা খাত দাঁড়িয়েছে জিডিপির ৫৩ শতাংশ, যা ১৯৯২ সালে ছিল ৫০ শতাংশ, শিল্প ২১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩১ শতাংশ আর কৃষি ২৯ শতাংশ থেকে নেমে এসেছে ১৫ শতাংশে।

সিএসপি অফিসার, মুক্তিযোদ্ধা নুরুল কাদের চাকরি ছেড়ে কোরীয় কোম্পানির সঙ্গে গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করলেন। তার দূরদর্শী পদক্ষেপে আজ গার্মেন্টস আমাদের দেশে এত প্রসার পেল। তিনি বেশকিছু মেধাবী তরুণকে নিয়োগ দিলেন তার কারখানায়; যাদের দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রশিক্ষণের জন্য পাঠালেন।

দেশে এসে তারা কিছুদিন চাকরি করল। তারপর ধীরে ধীরে চাকরি ছেড়ে দিয়ে নিজেরাই গার্মেন্টস কারখানা চালু করল। গার্মেন্টসকে তাই বলা যায় আমাদের শিল্পোদ্যোক্তাদের বীজতলা। আশির দশকে গার্মেন্টস খাতে বিশ্বপরিমণ্ডলে দুটি ঘটনা ঘটল। শ্রীলংকা অভ্যন্তরীণ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ল। তারা পোশাক তৈরিতে অনেক এগিয়েছিল।

যুদ্ধের কারণে তাদের দেশ থেকে বায়াররা সরতে শুরু করল। আমেরিকা পোশাক শিল্পে কোটা চালু করল। প্রথমে কিছু অসুবিধা হলেও পরে কোটার সুবাদে আমাদের দেশ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ রফতানি নিশ্চিত হলো।

গার্মেন্টসের সফল উদ্যোক্তাদের প্রয়াসে আরো অনেকগুলো খাত চালু হলো। যেমন সিঅ্যান্ডএফ, পরিবহন। আমাদের গার্মেন্টস খাত শ্রমনির্ভর। প্রায় ৬০ লাখ লোক কাজ করে এ খাতে। ২০০২ সালে আমাদের মোট রফতানি ছিল ৫ শতাংশ ৯৮ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে গার্মেন্টসের রফতানি ছিল ৩ শতাংশ ১ বিলিয়ন ডলার।

২০১৭ সালে মোট রফতানি দাঁড়িয়েছে ৩৪ শতাংশ ৮ বিলিয়ন ডলার আর গার্মেন্টসের রফতানি ২৮ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ ১৫ বছরে মোট রফতানি বেড়েছে ৬ গুণের অধিক। তৈরি পোশাক রফতানি বেড়েছে প্রায় ৯ গুণ আর অন্যান্য খাত মাত্র দুই গুণ।

ব্যাংক ছিল পশ্চিম পাকিস্তানিদের মালিকানায়। স্বাধীনতার পর সেগুলো জাতীয়করণ হলো। ১৯৮১ সালে আরব বাংলাদেশ বা এবি ব্যাংকের মাধ্যমে বেসরকারি ব্যাংকের যাত্রা। দেশে এখন ৫৭টি ব্যাংক আছে। তার মধ্যে ৪০টি বেসরকারি ব্যাংক। দেশের মোট সঞ্চয়ের ৬৫ ভাগ বেসরকারি ব্যাংকে ও ২৮ ভাগ সরকারি ব্যাংকে আছে।

মোট সম্পদের ৬৬ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে ও ২৭ শতাংশ সরকারি ব্যাংকের। ২০০১ সালে মোট ৫০টি ব্যাংক ছিল, তার মধ্যে ৩০টি বেসরকারি। মোট সঞ্চয়ের ৩৬ শতাংশ ছিল বেসরকারি ব্যাংকে, ৫১ শতাংশ সরকারি ও ৬ শতাংশ বিশেষায়িত ব্যাংকে। মোট সম্পদের ৪৭ শতাংশ সরকারি ব্যাংকের, ১২ শতাংশ বিশেষায়িত ব্যাংকের ও ৩৫ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকের।

অর্থাৎ বেসরকারি ব্যাংকগুলো সরকারি ব্যাংককে ব্যবসায় হটিয়ে দিচ্ছে। শুধু সংখ্যার হিসাবে নয়; সেবার গুণগত মান, পণ্যর উদ্ভাবন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, গ্রাহক সন্তুষ্টি, প্রযুক্তির প্রয়োগে বেসরকারি ব্যাংক অনেক এগিয়ে।

ব্যাংক অর্থনীতির চালিকাশক্তি। বেসরকারি খাতের উন্নয়নের জন্য ব্যাংকের অবদান অনস্বীকার্য। গার্মেন্টস শিল্পের বিকাশের পেছনে ব্যাংকের যথেষ্ট অবদান আছে। সাধারণত ব্যাংক থেকে ঋণ পেতে জামানত লাগে। গার্মেন্টসের নতুন উদ্যোক্তারা সাধারণত মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত থেকে উঠে আসা। ওই শিল্পে কাজ করে দক্ষতা অর্জনের পর তারা নিজেরাই সাহস করে ব্যবসায় নামে।

কয়েকজনে মিলে, নিজেদের সামান্য সঞ্চয় দিয়ে, ৩০-৪০টি মেশিন কিনে, ভাড়া জায়গায় কারখানা চালু করে। জামানত দেয়ার সামর্থ্য তাদের ছিল না। ব্যাংকরা ব্যাক টু ব্যাক এলসির অভিনব পদ্ধতি চালু করে। নির্ভরতা রফতানির এলসির ওপর। তার ৭০-৭৫ শতাংশ পর্যন্ত পণ্য আমদানি করার জন্য এলসি খুলতে দেয়া হয়। পোশাক তৈরি করে রফতানি করার পর আমাদানি এলসির দায় শোধ করার সুযোগ পাওয়ায় অনেকে ব্যবসা করতে পেরেছিল।

এই শতকে এক খাতের (যেমন গার্মেন্টস, বিড়ি, ভোগ্যপণ্য ইত্যাদি) সফল ব্যবসায়ীরা অন্য খাতে সম্প্রসারণ করেন। গ্রুপ অব কোম্পানিজ গড়ে ওঠে। গার্মেন্টসের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজে অনেক শিল্প (বস্ত্র, সুতা, কার্টন, অ্যাকসেসরিজ, বোতাম, জিপার ইত্যাদি) প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশের মধ্যেই রফতানি বা অনুমেয় রফতানি হিসেবে বিভিন্ন প্রণোদনা পান।

আশির দশকে ওষুধ নীতিমালার কারণে স্থানীয় ওষুধ কারখানার জন্য দরজা খুল যায়। স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে মেধাস্বত্বে ছাড় পায়। বিপুল জনসংখ্যার বাজারের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে যায় অনেক ওষুধ কোম্পানি। প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে অনেক বিদেশী কোম্পানি চলে যায়। অনেক দেশী কোম্পানি অনৈতিকতার আশ্রয় নেয়, যা বিদেশী কোম্পানি, কঠোর নিয়মনীতির কারণে করেনি। তবে দেশী কোম্পানির মানবসম্পদে বিদেশী কোম্পানির অবদান অনস্বীকার্য।

কৃষি খাতে নীরব বিপ্লব করেছেন অনেক উদ্যোক্তা। খামার করে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করেছেন। মুরগি চাষ করেছেন। ডিমের জন্য লেয়ার আর মাংসের জন্য ব্রয়লার। আমাদের প্রাণিজ আমিষের সিংহভাগ জোগান আসে এই খামার থেকে। বাণিজ্যিক খামারে প্রাণীকে প্রস্তুতকৃত খাবার দিতে হয়। সেই খাবারের জোগান দেয়ার জন্য তৈরি হলো ফিড মিল।

গার্মেন্টস শিল্পের সাফল্যও মুরগি খামারের চাহিদা বিকাশে সহায়তা করেছে। প্রতিদিন অতিরিক্ত সময় কাজের জন্য শ্রমিকদের টিফিন দেয়া হয়, যার মধ্যে ডিম একটি প্রচলিত আইটেম। ব্রয়লার মুরগি স্বল্প আয়ের শ্রমিকদের জন্য আমিষের সহজলভ্য উৎস।

আয় বাড়ার সঙ্গে মানুষের মৌলিক চাহিদা মেটার পর বেড়েছে বাসস্থানের চাহিদা। তার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে আবাসন ব্যবসা। ইসলাম গ্রুপ সত্তরের দশকেই শুরু করেছিল আবাসন প্রকল্প। কিন্তু আশির দশকে প্লট ব্যবসা জনপ্রিয়তা পায়। বসুন্ধরাসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ব্যাপক আকারে নামে। তখনো মানুষ অ্যাপার্টমেন্ট বা সম্মিলিত বাসের কথা ভাবতে পারেনি।

নব্বইয়ে দশকে প্লটের উচ্চমূল্যের কারণে ফ্ল্যাটে আকৃষ্ট হয় মানুষ। গড়ে ওঠে অ্যাপার্টমেন্ট ব্যবসা। ব্যাংকের গৃহঋণের এ ব্যাপারে বড় অবদান আছে। অ্যাপার্টমেন্ট ব্যবসা ঘিরে অনেকগুলো ব্যবসার চাহিদা তৈরি হলো; যেমন, সিমেন্ট, রড, টাইলস, কাচ, সিরামিক, ফার্নিচার, রঙ ইত্যাদি। রি-রোলিং মিলের কারণে জাহাজ ভাঙা শিল্প গড়ে উঠল। এসব শিল্প আমদানিনির্ভরতাকে কমাল।

অনেকে সীমিত আকারে রফতানিও করছে। দেশে বড় বাজার থাকলে ইকোনমি অব স্কেল অর্জনের মাধ্যমে খরচ কমিয়ে আনা যায়। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের জন্য মূল্য এবং মান— দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দেশের বাজারে হাত পাকিয়ে বিদেশের বাজারে প্রবেশ তাই সহজ হয়।

নগরায়ণ ও আয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রক্রিয়াজাত খাবারের চাহিদা বেড়েছে। আশির দশকে মালয়েশিয়া থেকে বিস্কুট, পরোটা আমদানি হতো। এখন প্রাণ, প্যারাগন, কাজি ফার্ম, আফতাব, ব্র্যাক, হার্ভেস্ট রিচ, স্কায়ার, এসিআই ইফাদ, বোম্বে সুইটস ইত্যাদি প্রক্রিয়াজাত খাবার সরবরাহ করছে। দেশীয় চাহিদার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠান এখন বিদেশের বাজারেও ঢুকছে। আমাদের প্রবাসীরা এক্ষেত্রে বড় বাজার। খাদ্য একটি জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতির অঙ্গ।

নব্বইয়ের দশকে দেশে মোবাইল ফোন বেসরকারী ক্ষেত্রে চালু হয়। ইন্টারনেট চালু হয় নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি। মোবাইল ফোন প্রতিযোগিতার কারণে এ দশকে সহজলভ্য হয়ে পড়ে দিনে দিনে। ইন্টারনেট মোবাইলে সংযুক্ত হয় দ্বিতীয় দশকে। স্মার্টফোনের দাম কমতে থাকে ক্রমাগত।

ইন্টারনেট ও সোস্যাল মিডিয়া বুনো আগুনের মতো হু-হু করে ছড়িয়ে পড়ে। মোবাইল ফোনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠে কিছু ব্যবসা যেমন মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমেফেস), টাকা পাঠানো বা লেনদেন সহজ করে দেয় বিকাশ, রকেট (আগে ডিবিবিএল), আইপে, শিওর ক্যাশ ইত্যাদি।

ইন্টারনেটের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে অনেক ব্যবসা, যেমন— রাইড শেয়ারিং, নিউজ পোর্টাল, চাকরির সন্ধান ইত্যাদি। চাকরি খোঁজার ঠিকানা হয়ে দাঁড়ায় বিডিজবস। উবার, সহজ, পাঠাও দিচ্ছে পরিবহন সুবিধা। চালডাল, অথবা, কিক্সা, সিন্দাবাদ, প্রিয়শপ, বাগডুম, দারাজ অনলাইন দোকান। আজকের ডিল এসব দোকানের জন্য বাজার। সেবা বিভিন্ন ধরনের সেবার বাজার। হাংরি নাকি, ফুড পান্ডা খাবার পৌঁছে দিচ্ছে বাসায়।

বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ইয়ান শাকিলের প্রতিষ্ঠান অগমেডিক্স গুগল গ্লাসের মাধ্যমে আমেরিকার ডাক্তারের রোগীর সঙ্গে কথোপকথন বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশে ইন্টারনেটে পাঠিয়ে দেয়, যা সেখানে বসে ইংরেজি জানা কোনো যুবক বা যুবতী লিপিবদ্ধ করছেন। আমেরিকায় ডাক্তাররা রোগীর সঙ্গে কথোপকথন লিপিবদ্ধ করতে আইনত বাধ্য। ডাক্তাররা নিজে সেই কথোপকথন কম্পিউটারে লিখতেন।

এখন ডাক্তার নিরবচ্ছিন্নভাবে রোগী দেখতে পারছেন। সপ্তাহে গড়ে ১৫ ঘণ্টা সময় বেঁচে যায়, যা অধিক রোগী দেখতে পারেন বা পরিবারকে সময় দিতে পারেন। টেন মিনিট স্কুল, এসো শিখি পাঠদান করছে ভার্চুয়ালি।

ডক্টরোলা, অলওয়েল স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছে অনলাইনে। এসব উদ্যোক্তা অনেকেই সরাসরি নেমে পড়েছে ব্যবসায়। বিশ্বের বিভিন্ন সাফল্যর উদাহরণ তাদের উদ্বুদ্ধ করছে। সাহস জোগাচ্ছে বুকে। আগামীর বাংলাদেশ তাদের হাতেই। লেখক: ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বিডি ভেঞ্চার লিমিটেড তথ্যসূত্র: বনিক বার্তা।




আরো পড়ুন




© All rights reserved © 2019 Business Studio
Theme Developed BY Desig Host BD