1. info@businessstdiobd.top : admin :
  2. 123@abc.com : itsme :
বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:৪৫ অপরাহ্ন

ওজনে কম দেয় সব কোম্পানির ফিলিং স্টেশন

ওজনে কম দিয়ে গ্রাহক ঠকাচ্ছে জ্বালানি তেল বিপণনকারী রাষ্ট্রায়ত্ত তিন কোম্পানিই। ডিলারদের ফিলিং স্টেশনের পাশাপাশি পদ্মা ও যমুনা অয়েল এবং মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ফিলিং স্টেশনও সঠিক মাপে জ্বালানি তেল সরবরাহ করছে না গ্রাহকদের। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ফিলিং স্টেশনে বিপণন কোম্পানি, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) যৌথ অভিযানে এ অনিয়ম ধরা পড়েছে।

গত বছরের নভেম্বরে হবিগঞ্জ, ঢাকা, জামালপুর, নড়াইল, ঝিনাইদহ, নওগাঁ, পঞ্চগড় ও নরসিংদীতে এ তিন কোম্পানির ১৫টি ফিলিং স্টেশনে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দেখা যায়, প্রায় ৬০ শতাংশ বা নয়টি ফিলিং স্টেশন জ্বালানি তেল বিক্রির সময় ওজনে কম দিচ্ছে। অভিযানে পদ্মা অয়েলের সাতটি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে পাঁচটিতেই ওজনে কম দেয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়।

এছাড়া মেঘনা পেট্রোলিয়ামের তিনটি স্টেশনের মধ্যে দুটি ও যমুনা অয়েল কোম্পানির পাঁচটির মধ্যে দুটি ফিলিং স্টেশনে কম জ্বালানি তেল দিয়ে গ্রাহক ঠকানোর প্রমাণ মেলে। এ প্রতারণার দায়ে ফিলিং স্টেশনগুলোকে ১ লাখ ২১ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও করা হয়।

জানতে চাইলে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার মূল প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. সামছুর রহমান বলেন, অর্থের বিনিময়ে গ্রাহক সেবা নিয়ে থাকে। প্রত্যেক গ্রাহকের ন্যায্য সেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। গ্রাহকের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিপিসি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে আসছে। অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রথমে অর্থদণ্ড দিয়ে ফিলিং স্টেশনগুলোকে সতর্ক করা হয়। এর পরও অভিযোগ পাওয়া গেলে তাদের ডিলারশিপ বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়।

রাষ্ট্রায়ত্ত তিন জ্বালানি তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানের সারা দেশে ফিলিং স্টেশন রয়েছে ২ হাজার ১৭১টি। এর বাইরে ব্যক্তি খাতে ডিলারশিপ রয়েছে আরো প্রায় সাড়ে তিন হাজার। এসব ফিলিং স্টেশন তিনটি কোম্পানির ডিপো থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে ফিলিং স্টেশনের মাধ্যমে গ্রাহক পর্যায়ে বিক্রি করে।

ডিপো থেকে যতটুকু ক্রয় করে, সে পরিমাণ জ্বালানি তেলের মূল্যই কোম্পানিকে পরিশোধ করে ফিলিং স্টেশনগুলো। ফলে ওজনে কম দেয়ার কারণে বাড়তি যে জ্বালানি তেল থাকে তা বিক্রির অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে না গিয়ে ফিলিং স্টেশনের কর্মকর্তাদের পকেটে ওঠে।

সাতটি বিভাগের ৬৫০টি ফিলিং স্টেশনের মাধ্যমে যানবাহনের জ্বালানি তেল বিক্রি করে যমুনা অয়েল। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে তাদের ফিলিং স্টেশন রয়েছে ১৪৬টি, চট্টগ্রামে ১০৭, রাজশাহীতে ৭৫, খুলনায় ৯৭, বরিশালে ১০, সিলেটে ৫০ ও রংপুরে ৭৫টি। এছাড়া এজেন্ট ডিস্ট্রিবিউটর রয়েছে ১ হাজার ৬৭টি। ডিস্ট্রিবিউটরদের পাশাপাশি কোম্পানিটির নিজস্ব ফিলিং স্টেশনেও জ্বালানি তেলে ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

যমুনা অয়েলের মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) মো. আয়ুব হোসাইন এ প্রসঙ্গে বলেন, ওজনে কম দিয়ে ফিলিং স্টেশনের কর্মীরা তেল চুরি করেন। এটি তাদের বাড়তি আয়ের কৌশল হতে পারে। তবে আমাদের ফিলিং স্টেশনগুলোয় যাতে কেউ জ্বালানি তেল চুরি করতে না পারে, সেজন্য অভিযান পরিচালনা করা হয়। এমনকি অর্থদণ্ডও দেয়া হয়।

জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ফিলিং স্টেশনগুলোয় জ্বালানি তেল ক্রয়-বিক্রয়ে তদারকি দুর্বলতার কারণে এ ঘটনা ঘটে। বিপণন কোম্পানিগুলো থেকে ফিলিং স্টেশনগুলো কী পরিমাণ জ্বালানি তেল ক্রয় করে এবং কী পরিমাণ তারা গ্রাহকের কাছে বিক্রি করে, সে হিসাব সূক্ষ্মভাবে তদারক করা হয় না।

সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী ভোক্তা পর্যন্ত পণ্য পৌঁছানোর বিভিন্ন ধাপে সিস্টেম লস হয়। ফলে ডিপো থেকে ফিলিং স্টেশনগুলো যে পরিমাণ জ্বালানি তেল ক্রয় করে, বিক্রিতে এর চেয়ে কিছু কম হওয়ার কথা। কিন্তু গ্রাহকদের ওজনে কম দিয়ে সিস্টেম গেইন করে বাড়তি মুনাফা তুলে নিচ্ছে ফিলিং স্টেশনগুলো।

মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছেন মহাব্যবস্থাপক মো. আকতার হোসেন। তিনি বলেন, ডিপো থেকে জ্বালানি তেল ডিলারের কাছে বিক্রির পর ওই পণ্যের বিষয়ে সব দায়-দায়িত্ব ডিলার প্রতিষ্ঠানের। তবে কেউ যদি ওজনে কম পাওয়ার অভিযোগ করেন, তাহলে আমরা সংশ্লিষ্ট ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

ফিলিং স্টেশনগুলোর ওজনে কম দেয়া ও ভেজাল জ্বালানি তেল বিক্রি নতুন নয়। বিভিন্ন সময় সারা দেশে ফিলিং স্টেশনগুলোয় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এর প্রমাণও পাওয়া যায়। এসব অপরাধে ফিলিং স্টেশনগুলোকে অর্থদণ্ড দেয়া হয়। কিছু কিছু ফিলিং স্টেশনের বাণিজ্যিক কার্যক্রমও স্থগিত করা হয়েছে বিভিন্ন সময়ে। কিন্তু অপরাধ ও জালিয়াতির তুলনায় শাস্তি কম হওয়ায় এসব অপরাধ বন্ধ না হয়ে ক্রমেই বাড়ছে।

এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যানবাহন মালিকরা। জ্বালানি বাবদ বাড়তি ব্যয় হচ্ছে তাদের। মো. মনিরুল ইসলাম নামে এক পাঠাও মোটরসাইকেলচালক জানান, ইঞ্জিনের ক্যাপাসিটি ভেদে এক লিটার তেলে ৩৫-৪০ কিলোমিটার পথ যাওয়ার কথা। কিন্তু ওজন কম হলে ২০ কিলোমিটার পথ যেতে না যেতে আবার জ্বালানি তেল কিনতে হয়। এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। তথ্যসূত্র: বনিক বার্তা।

আরো পড়ুন
© All rights reserved © 2019 Business Studio
Theme Developed BY Desig Host BD