1. info@businessstdiobd.top : admin :
মঙ্গলবার, ০২ মার্চ ২০২১, ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন




কিছু সহকর্মী এড়িয়ে চলুন!

ঈশা খানম একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র অফিসার। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি যেমন সহজ-সরল, কর্মজীবনেও তার সেই সারল্যের ছাপ। সবার সঙ্গে মিশেন, প্রাণ খুলে কথা বলেন। কারো কোনো কাজ বা আচরণ পছন্দ হলে কোনো ধরনের ভণিতা ছাড়াই সাবলীলভাবে প্রশংসা করেন।

আবার কারো কোনো আচরণ কিংবা কাজ অসঙ্গতিপূর্ণ মনে হলে সহকর্মীর সঙ্গে আলাপে বলে দেন ‘অমুকে’র এই আচরণ বদলে ফেলা উচিত। ঈশা সম্প্রতি লক্ষ্য করেছেন তার ঊর্ধ্বতন তার প্রতি কিছুটা রুষ্ট। এর কারণ অনুসন্ধানে ঈশা উপলব্ধি করলেন, তিনি তার এক সহকর্মীর সঙ্গে আলাপকালে ঊর্ধ্বতনের ‘অপছন্দনীয়’ একটি আচরণ নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন।

সেই সহকর্মীটি ঈশার কথাটি ৫ গুণ বাড়িয়ে বসের কান ভাড়ি করেছেন। বসকে ঈশা সম্পর্কে বিষিয়ে তুলেছেন। ঈশার ক্ষেত্রে যেটি ঘটেছে সেটির বিশ্লেষণে মানবসম্পদ পরামর্শকরা বলছেন, কর্মক্ষেত্রে ঈশা খানমের মতো এমন জটিল ও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে অনেককেই পড়তে হয়।

অতি সারল্যপনা ও সহকর্মীর ব্যক্তিত্ব উপলব্ধি করতে না পারার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অনেক সময় চাকরি চলে যাওয়ার কিংবা ছেড়ে দেয়ার পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। তাই অফিসে কারো সম্পর্কে অন্যের কাছে মন্তব্য করতে গেলে বুঝেশুনে করতে হবে। কর্মক্ষেত্রে কিছু সহকর্মী থেকে সতর্ক থাকতে হবে। পারলে এড়িয়ে চলা ভালো।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, সহকর্মীকে এড়িয়ে চলার কথা শুনে অনেকে ভ্রু কুঁচকে তাকাতে পারেন। কারণ সহকর্মীদের সঙ্গে মিলেমিশে বন্ধুত্ব করে না চললে অফিস চলবে কী করে? কিন্তু এটা বুঝতে হবে, অফিসে কিছু মানুষ থাকেন যারা কাজের ক্ষেত্রে উপকার তো করেই না বরং ঝামেলা সৃষ্টি করে। ওই ধরনের ব্যক্তি সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। গায়ে পড়ে মিশতে চাইলে বুঝতে হবে তার উদ্দেশ্য ক্ষতি করা। সুতরাং তাকে এড়িয়ে চলাই ভালো। কী ধরনের সহকর্মীর ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত তা দেখে নিন-

বাচাল: বাচালরা স্বভাবতই ব্যক্তিত্বহীন হয়ে থাকে। এই সহকর্মীটি আপনার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখে কিন্তু একই সঙ্গে আপনার হাঁড়ির খবর সর্বসমক্ষে প্রকাশ করে দেয়। সে এই কাজটি ইচ্ছায় করুক আর অবচেতন মনেই করুক, এতে আপনার ইমেজের যে ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে তা রিকোভারি করা কঠিন।

কর্মক্ষেত্রে আপনার প্রতি অন্যদের শ্রদ্ধা নিমিষেই শেষ হয়ে যেতে পারে এমন এক সহকর্মীর একটি কথার কারণে। আর এই সহকর্মীর আরেকটি খারাপ প্রভাব হল, সে আপনার সঙ্গে বকবক করতে শুরু করলে আর থামতে চাইবে না। ভদ্রতাবশত তাকে আপনার সাড়া দিতে হবে। এতে আপনার কাজের ক্ষতি হবে। আর এটা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভালোভাবে নিবে না।

সমালোচক: অফিসে এমন মানুষ থাকেই যারা নিজের কাজ হোক বা না হোক, অন্যের সমালোচনা তার করা চাই-ই চাই। সেটা সহকর্মীর সামনে হোক বা পেছনে হোক। এমন সহকর্মী থাকলে কাজের পরিবেশ অবধারিতভাবেই হয়ে ওঠে দূষিত। মনে রাখবেন, যে অন্যের সমালোচনা আপনার কাছে করে, সে আপনার বদনামও অন্যের কাছে করবে। এমন সহকর্মীকে কিছুতেই আস্থায় আনা যাবে না।

গায়ে পড়া সহকর্মী: প্রতি অফিসে দু’একজন লোক থাকে যারা অফিসে কাজ করতে নয়, কার্যত গল্প করতে আসেন। এরা সবসময় অন্যদের আকর্ষণ করেন এবং গল্প করার সুযোগ খোঁজেন। এতে অন্যদের কাজের অসুবিধে হচ্ছে কিনা তা নিয়ে তার মাথাব্যথা নেই। অন্যের ব্যক্তিগত ব্যাপারে নাক গলাতেও তারা সিদ্ধহস্ত। এদের বেশি কাছাকাছি থাকলে আপনার ক্যারিয়ারেও খারাপ প্রভাব পড়বে।

বিশ্বাসঘাতক: কর্মক্ষেত্রে ভুল-ত্রুটি হতেই পারে। আর টিমে কাজ করতে গেলে সেই ভুল-ত্রুটি মেনে নিয়েই কাজ করতে হয়। কিন্তু টিমওয়ার্কের ভুলের মাশুল যদি শুধু আপনাকেই গুনতে হয় তবে বুঝতে হবে আপনার গ্রুপে আছেন এমন একজন সহকর্মী যিনি নিজে কোনো রকমের ভুলের ভার না নিয়ে আপনাকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে। ঊর্ধ্বতনের কাছে আপনার ছোট ভুল নিয়ে স্লো পয়োজনিং করে বিষিয়ে তুলেছে। এদের বিষয়ে সতর্ক থাকবেন।

ক্রেডিট-চোর: আপনার কর্মক্ষেত্রকে দুর্বিষহ করে তোলার জন্য এমন একজনই যথেষ্ট। আপনি রাতজেগে খেটেখুটে রিসার্স রিপোর্ট তৈরি করলেন আর তার জন্য প্রাপ্য বাহবা ছিনিয়ে নেবেন এই সহকর্মী। তিনি বসকে এমনভাবে ম্যানেজ করতে পটু যে আপনার কিছুই করার থাকবে না। এদের সঙ্গে একই টিমে কাজ করাটা খুবই বিরক্তিকর। কারণ এরা সব কাজ আপনার ওপর চাপিয়ে দেবে আর কাজ শেষ হলে ক্রেডিট নেয়ার বেলায় থাকবে সবার সামনে।

হিংসুটে: কর্মক্ষেত্রে এমন কর্মী থাকে যারা কারো ভালো পারফর্মমেন্স সহ্য করতে পারে না। এরা অযোগ্যতার কারণে নিজেরা যেমন একই পজিশনে পড়ে থাকে তেমনি যোগ্যদেরও সহ্য করতে পারে না, প্রশ্ন তোলে। আপনার বেতন বৃদ্ধি ও প্রমোশন এরা সহ্য করতে পারবে না। এমন হিংসুটে সহকর্মীর বিষয়ে ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন।

হতাশাবাদী: পৃথিবীতে এমন মানুষ অনেক আছেন যারা সবকিছুকেই নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখতে ভালোবাসেন। পৃথিবীর সবকিছুর প্রতি হতাশ এবং বীতশ্রদ্ধ এই সহকর্মী। এদের সঙ্গে মেশার ফলে আপনিও এমন আচরণ দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে।

অহংকারী: তিনি সব সময়েই আপনাকে শোনাতে থাকবে তিনি কতটা ভালো কাজ করছে, পরবর্তী পদোন্নতিটা তারই নিশ্চিত, বস ম্যানেজড ইত্যাদি। তার এসব কথা শুনে আপনি নিজেকে ছোট মনে করা শুরু করতে পারেন। আপনার মধ্যে ইনফেররিটি কমপ্লেক্স কাজ করতে পারে এবং এতে কাজের প্রতি আপনার আগ্রহ উঠে যাবে।

অতি-প্রতিযোগী: আপনার প্রতি এই সহকর্মীর থাকতে পারে গোপন অথবা প্রকাশ্য বিদ্বেষ। তিনি যে কোনো মূল্যে আপনাকে টপকে ওপরে ওঠার চেষ্টা করবেন। কর্মক্ষেত্রে সুস্থ প্রতিযোগিতা খুবই ভালো কিন্তু এই সহকর্মীর থেকে অসুস্থ প্রতিযোগিতাই পাবার সম্ভাবনা বেশি। সেক্ষেত্রে তার ক্ষতি থেকে বেঁচে থাকার জন্য আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে।

রাজনীতিক: কাজ করে পদোন্নতি পাওয়ার চাইতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে তৈলমর্দন করে ওপরে ওঠার দিকে বেশি মনোযোগ এসব ব্যক্তি। এদের থেকে দূরে থাকুন এবং আপনার গ্রুপে এমন কোনো সহকর্মী আছে কিনা সে ব্যাপারে লক্ষ্য রাখুন।




আরো পড়ুন




© All rights reserved © 2019 Business Studio
Theme Developed BY Desig Host BD