1. info@businessstdiobd.top : admin :
  2. 123@abc.com : itsme :
শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৫৭ পূর্বাহ্ন

চ্যালেঞ্জ ছিল প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা!

সাক্ষাৎকার প্রতিবেদনটি অর্থসূচক থেকে সংগৃহীত: ইঞ্জিনিয়ার আবু নোমান হাওলাদার বিবিএস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তার দূরদর্শী নেতৃত্বে বিবিএস গ্রুপ দ্রুত বিকশমান একটি গ্রুপে পরিণত হয়েছে। এই গ্রুপের প্রথম প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস্ লিমিটেড (বিবিএস) পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত। ইতোমধ্যে এটি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করেছে। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিবিএস ক্যাবলস পুঁজিবাজারে আসার অপেক্ষায় আছে। অর্থসূচকের সঙ্গে বিবিএস ও বিবিএস ক্যাবলসের সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন অর্থসূচকের নিজস্ব প্রতিবেদক গিয়াস উদ্দিন।

অর্থসূচকঃ বিবিএস এর যাত্রা কবে, কিভাবে শুরু হয়?
আবু নোমান হাওলাদারঃ বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস (বিবিএস) ২০০৩ সালে কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হয়। ২০০৫ সালে আমরা কারখানা স্থাপন করি। ওই বছরই বাণিজ্যিক উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ শুরু হয়। ব্যাপক চাহিদার কারণে সময়ে সময়ে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো হয়।

বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস হচ্ছে ফেব্রিকেটেড স্টিল স্ট্রাকচার উৎপাদনকারী কোম্পানি। আমরা বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের জন্যে স্টিলের বিল্ডিং তৈরি করে থাকি। মূলত আমরা, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা কয়েকজন প্রকৌশলী, যৌথভাবে এই কোম্পানি গঠন করি। আমাদের পারস্পরিক বোঝাপড়া খুবই ভালো।

অর্থসূচকঃ প্রথমদিকে আপনাদেরকে কি ধরনের বাধা বিপত্তিতে পড়তে হয়েছে? কিভাবে সেগুলো সামলেছেন?
আবু নোমান হাওলাদারঃ প্রথমদিকে স্টিল স্ট্রাকচার বিল্ডিং অনেকে চিনতো-ই না। আমাদের যারা ক্লায়েন্ট তাদের কেউ কেউ জানতেন। আমাদের দেশের শিল্প-কারখানার বিল্ডিংগুলো অ্যাংগেলের বা আরসিসির হতো। এর জায়গায় আমরা প্রি-ফেব্রিকেটেড স্টিল বিল্ডিং নিয়ে আসি। তাই প্রথমদিকে কিছু সমস্যা হয়।

স্টিল ফেব্রিকেটেড বিল্ডিং আগে মধ্যেপ্রাচ্য থেকে আসতো। দেশে ২০০০ সালের দিকে এগুলোর উৎপাদন শুরু হয়।
আগেই বলেছি, প্রথমদিকে কিছু সমস্যার মুখোমুখী হতে হয়েছে আমাদেরকে। প্রথমত: অনেক ক্লায়েন্ট স্টিল ফেব্রিকেটেড বিল্ডিং এর সঙ্গে পরিচিত ছিল না বলে পণ্য বিক্রিতে কষ্ট হতো। এই বিল্ডিং এর সুবিধাগুলো তুলে ধরে নানাভাবে বুঝিয়ে তাদেরকে আগ্রহী করতে হতো। দ্বিতীয়ত: বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরামর্শকরা স্টিল ফেব্রিকেটেড বিল্ডিংয়ের সঙ্গে পরিচিত না থাকায় কোম্পানির মালিকদেরকে আরসিসি বিল্ডিং করার পরামর্শ দিতেন। এছাড়া শুল্ক, কর ও ভ্যাটের ক্ষেত্রেও ছিল নানা বিড়ম্বনা।

মূলত স্টিল ফেব্রিকেটেড বিল্ডিং এর বিষয়টি নতুন হওয়ায় এসব সমস্যা হয়েছে। এ বাস্তবতা মাথায় রেখেই আমরা এগিয়েছি। কোনো বাধাতে হতোদ্যম হইনি। মানুষকে স্টিল বিল্ডিংয়ের সুবিধা সম্পর্কে জানিয়েছি। অনেকের ভুল ধারণা ভাঙ্গিয়েছি। একটি দুটি করে বিল্ডিং হয়েছে। ধীরে ধীরে মানুষের মধ্যে স্টিল ফেব্রিকেটেড বিল্ডিং সম্পর্কে আস্থার জন্ম নিয়েছে।

অর্থসূচকঃ বাংলাদেশে অনেক সময় দেখা যায়, কোনো শিল্পখাত ভালো করতে শুরু করলে, সম্ভাব্যতা যাচাই না করেই সবাই ঝাপিয়ে পড়ে। এতে একটা অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়; যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে পুরো শিল্প খাতে। প্রি-ফেব্রিকেটেড বিল্ডিং শিল্পে কি অবস্থা?
আবু নোমান হাওলাদারঃ এখানেও যে কিছুটা মাশরুমিং হয়নি, তা নয়। তবে অন্য খাতের চেয়ে এ খাতটি একটু আলাদা। স্টিল ফেব্রিকেটেড বিল্ডিং যারা ব্যবহার করেন তারা যথেষ্ট শিক্ষিত ও সচেতন। তাই পণ্যের গুণগত মান যাচাই করা তাদের পক্ষে খুবই সহজ। এখানে মান নিশ্চিত না করে দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকা সম্ভব নয়।

অর্থসূচকঃ ফেব্রিকেটেড স্টিল বিল্ডিং এর বাজার কত বড়, এ খাতের ভবিষ্যত সম্ভাবনা কেমন?
আবু নোমান হাওলাদারঃ স্টিল বিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রটা অনেক বড়। বাজার দিন দিন বড় হচ্ছে। এখানেও অনেক প্রতিষ্ঠান হওয়ার সুযোগ আছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে রাস্তা ঘাটসহ শিল্পায়নে যে উন্নতি হচ্ছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এই খাতের চাহিদা বাড়ছে। ট্র্যাডিশনাল আরসিসি স্ট্রাকচারের বিল্ডিং এর তুলনায় স্টিল ফেব্রিকেটেড বিল্ডিংয়ে অনেক বাড়তি সুবিধা রয়েছে। এ ধরনের বিল্ডিং তৈরিতে সময় কম লাগে, স্বল্প সময়ে নির্মাণ কাজ শেষ করা যায়। এসব কারণে বাংলাদেশেও এই শিল্পের জনপ্রিয়তা বাড়ছে।

বিশ্বজুড়ে সড়ক সেতু, রেলওয়ে ব্রিজ, বাণিজ্যিক বিল্ডিং, ট্রেড সেন্টার, এয়ারপোর্ট ইত্যাদিতে অনায়াসে স্টিল স্ট্রাকচার ব্যবহার করা হচ্ছে। বাংলাদেশে যে গতিতে উন্নয়ত হচ্ছে, তাতে আগামি দিনে অনেক ব্রিজ, বড় বাণিজ্যিক ভবন, সরকারি স্থাপনা, এয়ারপোর্ট ইত্যাদি তৈরি হবে। আর তুলনামূলক সুবিধার কারণে সেখানে ব্যবহার করা হবে স্টিল স্ট্রাকচার। তাই স্টিল স্ট্রাকচারের বাজারটি অনেক বড় হওয়ার সম্ভাবনা আছে। অন্য অনেক শিল্পের চেয়ে স্টিল বিল্ডিংয়ের অনেক বেশি প্রবৃদ্ধির সুযোগ আছে। এসব কারণে এ শিল্পে জড়িত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বাড়ছে।

২০০০ সালে এই শিল্পে হাতে গোনা তিন-চারটি কোম্পানি ছিল। বর্তমানে আমাদের দেশে প্রায় ১০০টির মতো কোম্পানি আছে। অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠান এই খাতে বিনিয়োগে আসছে। তবে প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়লেও তার জন্য বিবিএসকে কোনো সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না। মানের উৎকর্ষ আর কমিটমেন্টের কারণে এ প্রতিযোগিতায় বিশেষ সুবিধা ভোগ করছে বিবিএস।

অর্থসূচকঃ বিবিএস এর উল্লেখযোগ্য গ্রাহকদের মধ্যে কারা আছে?
আবু নোমান হাওলাদারঃ বাংলাদেশের নামকরা যত শিল্প প্রতিষ্ঠান বা কর্পোরেট হাউজ আছে, তাদের বেশিরভাগই স্টিল বিল্ডিং ব্যবহার করেন এবং সবাই আমাদের গ্রাহক। উল্লেখযোগ্য গ্রাহকদের মধ্য রয়েছে-গ্রামীণফোন, বেঙ্গল গ্রুপ, থার্মেক্স গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, পারটেক্স গ্রুপ, আকিজ গ্রুপ স্কয়ার গ্রুপ, ম্যারিকো, হা-মিম গ্রুপ, নেসলে বাংলাদেশ, নাসা গ্রুপ, যমুনা গ্রুপ, মতিন স্পিনিং, এনভয় গ্রুপ, পলমল গ্রুপ প্রভৃতি।

অর্থসূচকঃ আমরা জানি, বিদেশেও প্রি-ফেব্রিকেটেড বিল্ডিং এর যথেষ্ট ব্যবহার আছে। প্রি-ফেব্রিকেটেড বিল্ডিং রপ্তানির সুযোগ বা সম্ভাবনা কতটুকু?
আবু নোমান হাওলাদারঃ বিদেশে এই বিল্ডিং রপ্তানি করার সুযোগ আছে। বিশ্বজুড়েই এ পণ্যের বাজার রয়েছে। যেসব দেশ এক সময় এই শিল্পে অনেক ভালো করেছে, তাদের প্রায় প্রতিটিতে শ্রমমূল্য অনেক বেশি। এ দিক থেকে বাংলাদেশ অনেক সুবিধাজনক অবস্থানে। তাই স্টিল ফেব্রিকেটেড স্ট্রাকচার রপ্তানির অনেক সুযোগ রয়েছে। ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এ পণ্যের ভালো গন্তব্য হতে পারে।

স্টিল প্রি-ফেব্রিকেটেড বিল্ডিং এর জন্যে আফ্রিকার বাজারও অনেক সম্ভাবনাময়। কারণ সেখানে এখনো এই ধরণের টেকনলজি পৌঁছেনি। আমরা কেউ কেউ সীমিত পরিসরে কিছু বিল্ডিং রপ্তানি করেছি। নতুন শিল্প হিসাবে সরকারের কাছ থেকে যদি কোনো ধরণের সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায় তাহলে রপ্তানির বাজার অনেক বড় করা সম্ভব।

অর্থসূচকঃ স্টিল বিল্ডিং থেকে ক্যাবল তৈরির দিকে ঝুঁকলেন কেনো?
আবু নোমান হাওলাদারঃ স্টিল বিল্ডিংয়ের সুনামের ধারাবাহিকতায় ক্যাবল শিল্পে পা রাখি আমরা।। আমরা ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টর নিয়ে কাজ করি। ক্যাবল ইঞ্জিনিয়ারিং খাত সংশ্লিষ্ট একটি পণ্য। একটা বিল্ডিংয়ের সাথে ক্যাবলও সম্পৃক্ত। আমরা যেসব প্রতিষ্ঠানের জন্য বিল্ডিং তৈরি করি, নানা কাজে তাদের ক্যাবলও প্রয়োজন হয়। বিল্ডিং দিয়ে যেহেতু আমরা গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করেছি, তাই ক্যাবল উৎপাদন করলে সহজেই তাদেরকে ক্রেতা হিসেবে পাওয়া যাবে এমন ভাবনা থেকে এই শিল্প শুরু করি আমরা। ২০০৯ সালের ১২ এপ্রিল একটি প্রাইভেট কোম্পানি হিসেবে বিবিএস ক্যাবলের যাত্রা শুরু। ২০১১ সালে আমরা বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করি।

যে কোনো শিল্পে নিজেদের অবস্থান তৈরি করা যে সহজ নয় আমরা জানতাম। ক্যাবল শিল্পের চ্যালেঞ্জগুলোও আমাদের মাথায় ছিল। আমরা জানতাম, প্রথম চ্যালেঞ্জ হবে উৎপাদিত ক্যাবলের গুণগত মান নিশ্চিত করা। ক্যাবল খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। এর সঙ্গে সম্পদ ও জীবনের নিরাপত্তার বিষয় জড়িত। দ্বিতীয়টি চ্যালেঞ্জটি ছিল এই শিল্পে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে এগিয়ে যাওয়া। আমরা এসব ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে নিজেদের প্রতি বিশ্বাস অটুট রেখে মেধা ও কর্মদক্ষতা নিয়ে মাঠে নামি। ক্যাবলের গুণগত মানের উপর ভর করেই আমরা এতদূর এসেছি।

অর্থসূচকঃ বিবিএস ক্যাবলস কী কী ধরনের ক্যাবল তৈরি করে।
আবু নোমান হাওলাদারঃ আমরা অ্যালুমিনিয়াম ক্যাবলস, কপার ক্যাবলস, সিলিকন ক্যাবলস, অপটিক্যালস ফাইবার ক্যাবলস, পাওয়ার ক্যাবলস, রাবার ক্যাবলস, রেলওয়ে সিগনালিং ক্যাবলস, ওয়েল্ডিং ক্যাবলস, জেলিফিলস ক্যাবলস, অটোমোবাইলস ক্যাবলস, সাবমার্সিবল ক্যাবলস, কক্সিয়াল ক্যাবলস, ফেল্ক্সিবল ক্যবলস, হাউজ ওয়ার ক্যাবলসহ বিভিন্ন ধরনের ইলক্ট্রিক্যাল, ইলেক্ট্রনিক এবং টেলিকমনিকেশন ক্যাবলস উৎপাদন করি।

অর্থসূচকঃ ক্যাবলের মানের বিষয়টি আপনা কীভাবে নিশ্চিত করেন।
আবু নোমান হাওলাদারঃ আমাদের খুবই সমৃদ্ধ একটি ল্যাবরেটরি আছে। উৎপাদিত ক্যাবলস প্রথমে সেই ল্যাবে পরীক্ষা করি। এখান সফল হওয়ার পরে অন্যদিকে যাই। আইএসই স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী যে ধরণের পরীক্ষা করা প্রয়োজন হয়, সেগুলো করার পরে আমরা গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাই।

নিজস্ব পরীক্ষা-নিরীক্ষার বাইরে আমরা বুয়েট ও থার্ড পার্টির মাধ্যমে পরীক্ষা করি। যেমন বুয়েটের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সিপিআরআই পরীক্ষার রিপোর্ট আমাদের আছে। সরকারের যে কোনো টেন্ডারে এই দুটি রিপোর্ট চায়। এর বাইরেও মাঝে মাঝে আমরা আন্তর্জাতিক আরও পরীক্ষা করে থাকি।

অর্থসূচকঃ দেশে এখন অনেকগুলো কোম্পানি ক্যাবল প্রস্তুত করছে। এতো প্রতিযোগিতার মধ্যে কেমন করছে বিবিএস ক্যাবল?
আবু নোমান হাওলাদারঃ বাজারে আসার কিছু দিনের মধ্যেই বিবিএস ক্যাবলস নিজেদের একটি জোরালো অবস্থান তৈরি করে নিতে সক্ষম হয়। পণ্য তথা ক্যাবলসের গুণগত মান দিয়েই আমরা এটি করেছি।

প্রথমত আমরা আমাদের মেশিনারিজ এনেছি জার্মানি এবং ইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকে। দ্বিতীয়ত রো-মেটেরিয়াল প্রথম দিন থেকে এলএমই ক্যাথটিক ব্যবহার করি। এই এলএমই ক্যাথটি জাপানের মারুবেনি কোম্পানি থেকে নিয়ে আসি। কাজেই আমাদের মেশিনারিজ নাম্বার ওয়ান। আমরা ভালো মানের কাঁচামাল জাপান থেকে আমদানি করি। তৃতীয়ত: আমাদের ইঞ্জিনিয়ার ও টেকনিশিয়ানরা হলেন বাংলাদেশের বিভিন্ন কারখানায় কাজ করা অভিজ্ঞ ও সুনামধারী। এই তিনের তিনের সমন্বয়ে বিবিএস ক্যাবলস প্রথম দিন থেকে ভালো মানের ক্যাবলসে রূপ নিয়েছে।

অর্থসূচকঃ বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস্ ও বিবিএস ক্যাবলস্ নিয়ে ভবিষ্যত কোনো পরিকল্পনা কি?
আবু নোমান হাওলাদারঃ বিবিএস ক্যাবলসকে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান ক্যাবল প্রস্তুতকারক কোম্পানিতে উন্নীত করতে চাই। সেই বিশ্বাস নিয়ে আমাদের ব্যবস্থাপনা পর্ষদ কাজ করছে। দ্বিতীয়ত বিবিএস ক্যাবলস রপ্তানির ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। আগামী বছর থেকে আমরা ক্যাবল রপ্তানি করার স্বপ্ন দেখছি। সে লক্ষ্য নিয়ে কাজও করছি। আর বিবিএসের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা হলো বাংলাদেশের বড় বড় যে প্রকল্প হচ্ছে সেখানে বিবিএসকে সম্পৃক্ত করা।

কোম্পানি বড় করতে পুঁজিবাজারে আসা উচিত। এই কোম্পানির ভালো-মন্দের সঙ্গে দেশের মানুষকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন
অর্থসূচকঃ বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমসের মাধ্যমে পুঁজিবাজারের সঙ্গে প্রথম আপনাদের যোগসূত্র তৈরি হয়। দ্বিতীয় কোম্পানি হিসেবে বিবিএস ক্যাবলসও আইপিওতে এসেছে। এ বিষয়ে আপনাদের অভিজ্ঞতা ও মূল্যায়ন সম্পর্কে একটু যদি বলতেন।

আবু নোমান হাওলাদারঃ আমি মনে করি, কোম্পানি বড় করতে পুঁজিবাজারে আসা উচিত। এই কোম্পানির ভালো-মন্দের সঙ্গে দেশের মানুষকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। যাতে কোম্পানিটিও বড় হয়, অনেক লোকজন এই কোম্পানির সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে। এভাবেই একটি কোম্পনি সহজে বড় হতে পারে। আমি মনে করি বিবিএস ও বিবিএস ক্যাবলস পুঁজিবাজারে আসার ফলে এই ধারাতেই আছে এবং বড় হওয়ার জন্য পুঁজিবাজার ভূমিকা রাখবে।

অর্থসূচকঃ পুঁজিবাজার থেকে টাকা নিয়ে বিবিএস ক্যাবলস কী করবে?
আবু নোমান হাওলাদারঃ পুঁজিবাজার থেকে উত্তোলিত অর্থের ৭১ শতাংশ ব্যবসা সম্প্রসারণে বিনিয়োগ করবো। এতে কোম্পানির বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। উত্তোলিত ২০ কোটি টাকার মধ্যে আইডিএলসি ফাইন্যান্সের ৪ কোটি টাকার ঋণ পরিশোধ করা হবে। আর আইপিও বাবদ খরচ হবে প্রায় পৌনে ২ কোটি টাকা। বাকি প্রায় ৭১ দশমিক ৩ শতাংশ টাকা ব্যবসা সম্প্রসারণে ব্যয় হবে। এর মধ্যে প্লান্ট ও মেশিনারিজ স্থাপনে ব্যয় হবে ৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা। আর অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে ৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

অর্থসূচকঃ দেশে বিভিন্ন খাতে ভালো ভালো অনেক কোম্পানি রয়েছে। কিন্তু এর বেশীরভাগই এখনো পুঁজিবাজারের বাইরে। নানা কারণে অনেক উদ্যোক্তা পুঁজিবাজারকে ভয় পান, অস্বস্তি বোধ করেন। এসব কারণে তারা বাজারে আসতে চান না। আপনার অভিজ্ঞতার আলোকে তাদের উদ্দেশ্যে যদি কিছু বলতেন।

আবু নোমান হাওলাদারঃ সব কোম্পানি বাজারে যেমন আসছে না, তেমনি অনেক কোম্পানি আসতে চাইলেও আসতে পারছে না। বিএসইসি তখনই একটি কোম্পানিকে অনুমোদন দেয়,যখন ওই কোম্পানির মধ্যে ভবিষ্যতে ভালো করার বা প্রবৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। একই সঙ্গে শেয়ারহোল্ডারদের কিছু দিতে পারবে। আমি শুধু বড় হলাম কিন্তু মুনাফা ওইভাবে নেই, তাহলে সেই কোম্পানি আসতে পারবে না। আবার অনেকের মুনাফা ও প্রবৃদ্ধি থাকার পরও পুঁজিবাজারে আসছে না। কেন তারা আসছে না তার কোনো ব্যাখ্যা আমার কাছে নেই। তবে আমি মনে করি ভালো কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে আসা উচিত।

তথ্যসূত্র: অর্থসূচক ডটকম।

আরো পড়ুন
© All rights reserved © 2019 Business Studio
Theme Developed BY Desig Host BD