1. info@businessstdiobd.top : admin :
বুধবার, ০৩ মার্চ ২০২১, ০৬:১২ অপরাহ্ন




ছাত্র অবস্থায় শুরু, এখন কোটি কোটি টাকার হ্যাচারী মালিক!

মেধা, পরিশ্রম, আর ইচ্ছা শক্তির কারণে চাঁদপুরের হ্যাচারি মালিক মো. বিল্লাল খান মাত্র ৫শ টাকা থেকে ৫ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।
হ্যাচারি পেশায় নিজের ভাগ্য বদলের পাশাপাশি বর্তমানে ৩০ থেকে ৩৫ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছেন মো. বিল্লাল খান।
তাকে দেখে ওই গ্রামের ও আশপাশের তরুণরা হ্যাচারি ব্যবসায় সম্পৃক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া তাকে অনুসরণ করে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গড়ে উঠেছে অনেক হ্যাচারি।

চাঁদপুর সদর উপজেলার পশ্চিম চান্দ্রা গ্রামের মো. আনোয়ার উল্লাহ খানের বড় ছেলে মো. বিল্লাল হোসেন খান (৪২)। কৃষি কাজ করে বাবা যখন বড় পরিবারের ঘানি টানতে টানতে ক্লান্ত হয়ে পড়ছিলেন ঠিক তখন থেকেই পরিবারের বড় ছেলে হিসেবে সংসারের জন্য কিছু করার পরিকল্পনা করেন বিল্লাল।

ছাত্রজীবনে টিউশানি করে হাত খরচ বাদ দিয়ে ৫শ টাকা জমিয়েছেন অনেক কষ্টে। ১৯৮৬ সালের শেষের দিকে ছাত্রাবস্থায় অন্যের একটি ছোট পুকুর বর্গা নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন। ডিগ্রিতে ভর্তি হলেও তা আর শেষ করা হয়নি। পড়াশুনার ফাঁকে মৎস্য চাষের ওপর প্রশিক্ষণ নেন চাঁদপুর যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে। সেখানে তাকে হাতে-কলমে আন্তরিকতার সঙ্গে প্রশিক্ষণ দেন হ্যাচারি পরিচালক মাহাবুবুল আলম। সেই থেকে শুরু! বিল্লাল বর্তমানে এলাকায় সু-প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী।

দু’বোনকে প্রতিষ্ঠিত ছেলে দেখে বিয়ে দিয়েছেন। এক ভাই বিদেশে, সোঝো ভাই মনির হোসেন খান হ্যাচারির ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পলান করছেন। আর ছোট ভাই মো. মাইনুদ্দিন খান চাঁদপুর সরকারি কলেজে অনার্সে পড়াশুনা করছেন। বর্তমানে ৪ একর জমিতে মোট ৮টি পুকুরে দুটি হ্যাচারি চালু আছে বিল্লাল খানের। ভবিষ্যতে ব্যবসা আরও বড় করার পরিকল্পনাও রয়েছে তার। তার হ্যাচারিতে ৩০ থেকে ৩৫ জন শ্রমিক কাজ করেন। এখানে কাজ করেই চলে তাদের সংসার।

শ্রমিক মো. হামিদ মিয়া বলেন, “এখানে কাজ করে আমার ৮ জনের সংসার চলে। এখানে কাজ করলে কোনো দিন বেকার থাকতে হয় না। অন্য কাজে গেলে মাঝে-মাঝে কাজ থাকে না। তখন পরিবার নিয়ে অনেক কষ্টে দিনযাপন করতে হয়। তাই, এখানেই কাজ করছি। অন্য কোথাও যাই না, যাবোও না।”

শ্র্রমিক কাউছার আলম বলেন, “এখানে কাজ করে আমরা সবাই ভালো আছি।” বিল্লালের হ্যাচারিতে মনোসেক্স তেলাফিয়া, রুই, কাতলাসহ কার্পজাতীয় সব মাছের পোনা উৎপাদন করা হয়ে থাকে। বিল্লালের সফলতা দেখে এলাকার অনেকেই হ্যাচারি ব্যবসা করতে উৎসাহ পাচ্ছেন। ওই এলাকার তরুণ মানিক মিয়া বলেন, “শুনেছি, এ ব্যবসায় অনেক লাভ। তাই, টাকা পয়সা-জোগাড় করতেছি। আমিও একটা হ্যাচারি দেবো।”

এ ব্যবসায় আসলে সফলতা নিশ্চিত বলে মনে করেন বিল্লালের ছোটভাই হ্যাচারির ম্যানেজার মনির হোসেন খান। তিনি বলেন, “এখান থেকে পোনা বিক্রি হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। এ পেশায় অনেক লাভ। তাই, তরুণদের এ পেশায় এগিয়ে আসা উচিৎ। কারণ, এ পেশা যেমনি নিজেকে স্বাবলম্বী করে তেমনি অন্যদেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে।”

হ্যাচারি মালিক বিল্লাল হোসেন খান বলেন, “নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করলে অবশ্যই সফলতা ধরা দেবে। আমার এখন কোনো অভাব নেই। আমার পথ অনুসরণ করে অনেকেই এ পেশার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। ফরিদগঞ্জ হাজীগঞ্জ, কচুয়াসহ আরও অনেক স্থানে হ্যাচারি ব্যবসা শুরু করেছে অনেকে।”

শ্রম আর একনিষ্ঠতায় নিজের ভাগ্য বদলে যায় রূপকথার মতো। আবার সেইসঙ্গে অনেকেরই জীবনের অবলম্বন হয়ে যান তিনি। বিল্লাল হোসেন তেমনিই একটা উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন!

তথ্যসূত্র: দেশে বিদেশে ডটকম।




আরো পড়ুন




© All rights reserved © 2019 Business Studio
Theme Developed BY Desig Host BD