1. info@businessstdiobd.top : admin :
সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১, ১০:১৫ পূর্বাহ্ন




তিন লাখ কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্য নির্ধারণ নতুন অর্থমন্ত্রীর

চলতি অর্থবছর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ৩ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করে দিলেন নতুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এজন্য সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়ে রাজস্ব কাঠামো ঢেলে সাজাতে বলেছেন তিনি। তবে চলতি অর্থবছরেই রাজস্বের এ লক্ষ্য বাস্তবায়নযোগ্য নয় জানিয়ে তা আড়াই লাখ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছেন এনবিআরের চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া।

মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পর সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন বিভাগের সঙ্গে মত বিনিময় করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান ছাড়াও অর্থ বিভাগের সচিব মো. আবদুর রউফ তালুকদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলামসহ অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগের দেয়া অভ্যর্থনার জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘২০১০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ৫০ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি রাজস্ব পাওয়া যেত। এটি এখন দুই লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। চলতি অর্থবছর তিন লাখ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ করব।’

পাশে বসা এনবিআর চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ করে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘আপনি আমাকে বছর শেষে তিন লাখ কোটি টাকা দেবেন।’ উত্তরে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা রাজস্ব আহরণ বাড়াতে নানা উদ্যোগ নিয়েছি। সব পর্যায়ে অটোমেশন বাস্তবায়ন করছি। তবে চলতি অর্থবছরই তিন লাখ কোটি টাকা দেয়া সম্ভব হবে না। এখন পর্যন্ত রাজস্ব আহরণে যে গতি ও প্রবৃদ্ধি তাতে অর্থবছর শেষে ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা দিতে পারব।’

এনবিআর চেয়ারম্যানের এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রয়োজনে এনবিআরকে ঢেলে সাজাতে হবে। রাজস্ব আহরণ বাড়াতে এনবিআরকে নতুন আঙ্গিকে সাজাতে হবে। জনবল বাড়াতে হবে মাঠপর্যায়ে। বন্দরের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম শতভাগ অটোমেশনের মাধ্যমে করতে হবে। প্রতিটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সরকারের উদ্যোগে ইসিআর বসিয়ে ভ্যাট ফাঁকি বন্ধ করতে হবে। কর্মকর্তাদের আরো সক্রিয় করতে হবে। অর্থবছর শেষে ৩ লাখ কোটি টাকাই দিতে হবে। এর কম হলে স্বাভাবিক উন্নয়ন অব্যাহত রাখা যাবে না।

চলতি অর্থবছরের ৩২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে এনবিআরকে ২ লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়েছে। সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, প্রথম ছয় মাসে রাজস্ব আহরণে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ শতাংশের কাছাকাছি। এ সময়ে ১ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে গতকাল পর্যন্ত এনবিআর আহরণ করেছে ১ লাখ ১ কোটি টাকা।

এ পরিস্থিতি মোকাবেলা করেই রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর কথা জানান আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, এনবিআর কর্মকর্তাদের আরো কৌশলী হতে হবে। শহর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে কর অফিস স্থাপনের পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় একাধিক কর অফিস স্থাপন করে মানুষকে করের আওতায় আনতে হবে। বেশি জনবল নিয়োগের মাধ্যমে করদাতাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের দায়িত্ব দিতে হবে কর্মকর্তাদের।

করদাতা বৃদ্ধির বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে এখন ৩৭ লাখ নিবন্ধিত করদাতা রয়েছেন। তবে আয়কর রিটার্ন পাওয়া যাচ্ছে ১৫-১৬ লাখ। এটা বাড়াতে হবে। আমাদের দেশে প্রায় চার কোটি মধ্যবিত্ত রয়েছেন। মধ্যবিত্তরা চাইলেই বছরে ৫-১০ হাজার টাকা কর পরিশোধ করার ক্ষমতা রাখেন। এদের করের আওতায় এনে রাজস্ব আহরণ বাড়াতে হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘অর্থ মন্ত্রণালয় নতুন পরিসরে, নতুন কলেবরে যাত্রা করবে। সেখানে অনেক নতুনত্ব আপনারা দেখতে পাবেন। এটা আমার সাবজেক্ট (বিষয়)। আমি এ সাবজেক্ট নিয়েই লেখাপড়া করেছি। সুতরাং আমি এটুকু বলতে পারি, আপনাদের মিথ্যা আশ্বাস দেব না। আমি ব্যর্থ হব না। আমার বিশ্বাস, আপনারাও ব্যর্থ হবেন না।’

ব্যাংকিং খাত নিয়েও গতকাল কথা বলেন নতুন অর্থমন্ত্রী। খেলাপি ঋণ আদায়ে নতুন কৌশল নেয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা ভালো ও খারাপকে একসঙ্গে মেলাব না। কাউকে জেলেও পাঠাব না, বন্ধও করে দেব না। আত্মীয়স্বজন চিনব না, যে দেয় এবং যে দেয় না, তাদের এক জায়গায় রাখব না। যে দেয় তার জন্য প্রয়োজনে প্রণোদনার ব্যবস্থা করে দেব। মন্দঋণের যে কথা বলা হচ্ছে, তা একটা লম্বা সময় ধরে চলে আসছে। এটি ৭ থেকে ৮ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে। স্পেড (ঋণ ও আমানতের সুদহারের পার্থক্য) বেশি হলে আমানত ফেরত আসে না। এসব বিষয় বিবেচনা করতে হবে।

পুঁজিবাজারের জন্য প্রশিক্ষিত বিনিয়োগকারী দরকার উল্লেখ করে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, পুঁজিবাজার এক দিন-দুই দিনের জন্য নয়। লোভে পড়ে এখানে আসা যাবে না। দীর্ঘ সময়ের জন্য এগুলো বিবেচনা করতে হবে, প্রশিক্ষিত বিনিয়োগকারীদের নিয়ে আসতে হবে। যারা এ দেশ থেকে টাকাপয়সা নিয়ে গেছে, তাদের আবার তা এ দেশে নিয়ে আসতে সুযোগ করে দেয়া হবে, যাতে তারা ম্যাক্সিমাম লাভ করতে পারে। আমরা বন্ড মার্কেটেরও প্রসার ঘটাব।




আরো পড়ুন




© All rights reserved © 2019 Business Studio
Theme Developed BY Desig Host BD