1. info@businessstdiobd.top : admin :
  2. 123@abc.com : itsme :
মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন

দুই বছরে গাড়িতে এলপিজির ব্যবহার দ্বিগুণ

তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি বাসাবাড়ির একটি প্রচলিত জ্বালানি। গাড়িতেও এর ব্যবহার বাড়ছে বেশ দ্রুতগতিতে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, গত দুই বছরে দেশের এলপিজিতে চলা গাড়ির ব্যবহার বেড়েছে দ্বিগুণের চেয়েও বেশি হারে। গাড়িতে জ্বালানি নেওয়ার প্রক্রিয়া সিএনজি আর এলপিজি প্রায় এক। ওই জ্বালানির সংরক্ষণও হয় একই রকম সিলিন্ডারে। পার্থক্য শুধু সিএনজি সিলিন্ডারে যায় গ্যাস হয়ে, আর এলপিজি যায় তরল।

দুই বছর আগে একটি হলুদ টেক্সি ক্যাব প্রতিষ্ঠান এলপিজির ব্যবহার শুরু করে। তখন দেশে এমন গাড়ির সংখ্যা ছিল দুই থেকে আড়াই শ। এখন অনেক ব্যক্তিগত গাড়িতেও এর ব্যবহার শুরু হয়েছে। বর্তমানে প্রায় পাঁচ থেকে সাত হাজার গাড়িতে এলপিজি ব্যবহৃত হয়। রাজধানীর বাইরে কুমিল্লা, যশোর, কক্সবাজার শহরসহ বিভিন্ন জেলায়ও গাড়ির পাশাপাশি তিন চাকার অটোরিকশায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই তরল গ্যাস।

রাজধানীর তেজগাঁও সাউদার্ন ফিলিং স্টেশনে কথা হয় এলপিজিতে চলা থ্রি হুইলারের চালক মো. আনিসের সঙ্গে। তিনি জানান, এলপিজি কিনতে টাকা একটু বেশি দিলেও মাইলেজ ভালো। তাই এক বছর ধরে তিনি এলপিজি দিয়ে গাড়ি চালান। এর ফলে গাড়ি যখন-তখন মিস্ত্রির কাছে নিতে হয় না। বছরে এক বা দুবার নিলেও তা একেবারে কম খরচেই সারানো যায়।

একই ফিলিং স্টেশনের পাম্পকর্মী রহিম মিয়া বলেন, ‘আমাদের এলপিজি ক্রেতা দিন দিনই বাড়ছে। এক বছর আগে যেখানে ৫০০ থেকে এক হাজার লিটার এলপিজি বিক্রি হতো, গত এক বছরে তা দুই থেকে তিন গুণ বেড়েছে।’তিনি আরো জানান, রাজধানীতে আরো ১০টি পাম্পে এলপিজি বিক্রি হয়। প্রতি লিটার এলপিজি বিক্রি হয় ৪৫ টাকায়। তাঁদের পাম্প থেকে দৈনিক দুই থেকে আড়াই হাজার লিটার বিক্রি হয়। এর মধ্যে থ্রি হুইলার, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মাইক্রোবাসে বেশি বিক্রি হয়।

মগবাজার মোড়ের একটি এলপিজি পাম্পে কথা হয় বেসরকারি এক ব্যাংক কর্মকর্তা ফয়সাল শাহেদ সুমনের সঙ্গে। তিনিও এক বছর ধরে তাঁর গাড়িতে এলপিজি ব্যবহার করেন। পেট্রল, অকটেন বা সিএনজি বাদ দিয়ে কেন এলপিজি দিয়ে গাড়ি চালান—এমন প্রশ্নে তিনি জানান, সিএনজি হলো শুকনো। এতে গাড়ির ইঞ্জিন শুকনা হয়ে যায়।

এলপিজি তরল, তাই ইঞ্জিন শুকায় না এবং গতিশীল রাখে। এলপিজি অনেকটা তেলের মতো। গাড়ি অকটেনে চালালে যে উপকার, এলপিজিতে চালালেও একই উপকার পাওয়া যায়। এলপিজি ব্যবহারের সুবিধার কথা জানিয়ে সিএনজি চালক মো. জামান বলেন, ‘আমরা সাধারণ ৩০০ কিলোমিটার চালিয়ে এলপিজি নিই। আর সিএনজি ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার চালিয়ে গ্যাস নিতে হয়। এতে করে আমাদের সময় অপচয় অনেক কম হয়।’

এলপিজি ব্যবহারের সুবিধা নিয়ে ফয়সাল শাহেদ সুমন জানান, প্রতি লিটার এলপিজি ব্যবহার করে সাড়ে ৬ কিলোমিটার গাড়ি চালানো যায়। একেকটি গাড়িতে ১০ থেকে ১৪০ লিটার পর্যন্ত ধারণ ক্ষমতার এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করা যায়। যদিও দেশে প্রচলিত সেডান গাড়িগুলোতে ৬০ লিটার সিলিন্ডার ব্যবহারই বেশি হয়। মানভেদে এমন একটি সিলিন্ডার বসাতে খরচ হয় ৩৯ থেকে ৬৯ হাজার টাকা।

এলপিজি ব্যবহারের জনপ্রিয়তা বাড়ছে উল্লেখ করে বসুন্ধরা এলপিজির মহাব্যবস্থাপক জাকারিয়া জালাল বলেন, ‘এলপিজির প্রধান সুবিধা গ্যাসের জন্য লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় না। একবারে নিলে ৪০০ থেকে ৪৫০ কিলোমিটার গাড়ি চালানো যায়। এতে করে দুই-তিন দিন চলে যায়। অন্যদিকে সিএনজি প্রতিদিন নিতে হয়। এ ছাড়া গ্যাস নেওয়ার সময় প্রেশার থাকে কম। ফলে ৭০ শতাংশ গ্যাস পেলেও বাকি ৩০ শতাংশই থাকে বাতাস। এর ফলে ৩০ শতাংশ জ্বালানিতে ঠকে ভোক্তারা।’

তিনি আরো জানান, বর্তমানে দেশে ১২০ থেকে ১৩০টি এলপিজি পাম্প আছে। গত বছর ছিল ৪০ থেকে ৫০টির মতো। ২০২০ সালের জুনের মধ্যে এই সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি মনে করেন। এক বছর ধরে সরকার এলপিজি ব্যবহারে সরকার উৎসাহিত করছে। দুই বছর ধরে দেশে এলপিজি থ্রি হুইলার বাজারজাত করা হয়েছে।

সিএনজি থেকে এলপিজিতে যত সুবিধা : দাম—এলপিজি প্রতি লিটার ৪৫ টাকা, অকটেন, ৮৯ টাকা, আর সিএনজি ৪০ টাকা মিটার কিউব। কিন্তু এলপিজিতে মাইলেজ বেশি, রক্ষাণাবেক্ষণ খরচ অনেক কম। সিলিন্ডারের ওজন-এলপিজি ১৯ কেজি, সিএনজি ৭০-৮০ কেজি এবং এলপিজিতে বিস্ফোণের ঝুঁকি নেই। সুত্রঃ কালের কন্ঠ

আরো পড়ুন
© All rights reserved © 2019 Business Studio
Theme Developed BY Desig Host BD