1. info@businessstdiobd.top : admin :
  2. 123@abc.com : itsme :
মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন

দু’হাত নেই তবুও ছক্কা হাঁকাচ্ছেন!

ঝিলম নদীর তীরের আমির হুসেন বোধহয় অন্য ধাতুতে গড়া এক ছেলে। দুর্ঘটনায় দুটো হাত চলে যাওয়ার পরেও তিনি ক্রিকেট খেলে চলেছেন। স্কুলে পড়াশোনাও করেছেন। হাল ছেড়ে দেওয়ার বান্দা একেবারেই নন ২৬ বছরের তরুণ। সেই আট বছর বয়সে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দুটো হাত চলে গিয়েছিল আমিরের। তার পরের কাহিনি লড়াইয়ের। প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে জীবনের মূলস্রোতে ফিরে আসার।

দুটো হাত না-থাকলেও আমির ব্যাট-বল করতে এখন দক্ষ। এক অভিনব স্টাইলে ক্যাচও ধরেন তিনি। পায়ের আঙুল দিয়ে তিনি বল করেন। ব্যাট করার সময়ে কাঁধ ও গলার মাঝখান দিয়ে ব্যাটটা শক্ত করে ধরেন। তার পরে খুব সহজেই পেটাতে শুরু করে দেন বল। কীভাবে তিনি এই কৌশল রপ্ত করেছেন, তা তিনিই একমাত্র বলতে পারবেন।

নিজের জীবনের করুণ কাহিনি শোনাতে গিয়ে আমির বলছেন, ‘‘ক্রিকেট আমার প্যাশন। গোড়ার দিকে তো খুব সমস্যায় পড়তে হয়েছিল আমাকে। প্রথম প্রথম তো খেতেও পারতাম না। দুর্ঘটনার পরে যখন ক্রিকেট খেলতে শুরু করলাম, সবাই আমাকে নিয়ে রসিকতা করতে শুরু করে দিয়েছিলেন। মস্করা করতেন। এখন কিন্তু সবাই আমাকে খুব সাপোর্ট করেন।’’

যে ব্যাট ধরার জন্য আমিরের এত লড়াই, সেই ব্যাটই অবশ্য তাঁর দুটো হাত চলে যাওয়ার কারণ। বাবা বশিরের ক্রিকেট ব্যাট তৈরির কারখানা ছিল। সেই কারখানার কাঠ চেলাই মেশিনে আমিরের হাত দুটো কাটা পড়ে। হাসপাতালে দীর্ঘদিন তাঁকে থাকতে হয়েছে। ছেলের চিকিৎসার জন্যে বাবা বশির সর্বস্ব বিক্রি করে দেন।

পাড়াপড়শি সেই সময়ে বশিরকে নিরুৎসাহ করার চেষ্টাও করেন। বলেন, ‘‘চিকিৎসার পিছনে টাকা খরচ করতে যেও না। টাকাগুলো জলে দিচ্ছ তুমি।’’ এমন কথাও শুনতে হয়েছে বশিরকে। কিন্তু তাতে কান দেননি আমিরের বাবা। ছেলের চিকিৎসা চালিয়ে গিয়েছেন। ঠাকুমার উৎসাহে স্কুলে গিয়েছেন আমির। সেখানে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখিও হয়েছেন।

শিক্ষকের কাছ থেকে কটূ কথা শুনতে হয়ছে তাঁকে। দমে যাননি আমির। এখন তিনি জম্মু-কাশ্মীর প্যারা ক্রিকেট দলের অধিনায়ক। সচিন তেন্ডুলকর তাঁর পছন্দের ক্রিকেটার। স্বপ্ন দেখেন জাতীয় দলে খেলার।

তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট।

আরো পড়ুন
© All rights reserved © 2019 Business Studio
Theme Developed BY Desig Host BD