1. info@businessstdiobd.top : admin :
রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ০৩:১৪ পূর্বাহ্ন




প্রতি মাসে লাখ টাকা আয় মাছের খামার থেকে!

মাছ চাষ করে প্রতি মাসে লাখ টাকা আয় করেন লোহাগাড়া উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নের নালারকুল গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন। একনামে চেনে গ্রামের সবাই। ২০০৬ সালে বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে চাকরির পেছনে ছোটেননি। তাঁর স্বপ্ন ছিল কৃষি ও মৎস্য খামার গড়ে তুলবেন। তিনি সেই স্বপ্ন শুধু বাস্তবায়নই করেননি, মাছ চাষ করে জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছেন।

বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের আন্ধারী এলাকায় ১৫টি পুকুরে জাহাঙ্গীর হোসেনের মাছের খামার। মাছ চাষ থেকে বছরে খরচ বাদ দিয়ে তাঁর লাভ হয় ১০ লাখ টাকার মতো। এ ছাড়া পুকুর পাড়ে তিনি লাগিয়েছেন কয়েক হাজার রেড লেডি জাতের পেঁপেগাছ। মৌসুমে শুধু পেঁপে বিক্রি করেই মাসে ৬০ হাজার টাকা আয় হয় তাঁর। বর্তমানে তাঁর দেড় হাজার গাছে পেঁপের ফলন হয়েছে। কর্মচারীদের বেতন ও আনুষঙ্গিক খরচ বাদ দিয়ে প্রতি মাসে তাঁর আয় লাখ টাকার কাছাকাছি।

কীভাবে এল এই সাফল্য? সম্প্রতি লামার আন্ধারী এলাকায় জাহাঙ্গীরের খামারে গেলে তিনি সবিস্তারে শোনান তাঁর সাফল্যের গল্প। শুরুতে খামার করার ইচ্ছা থাকলেও বিনিয়োগ করার মতো টাকা ছিল না তাঁর কাছে। তবে মা–বাবা দুজনই সরকারি চাকরি থেকে একই বছর অবসর নেওয়ার পর কিছু মূলধন হাতে পান তিনি।

সেই টাকা দিয়ে ২০১১ সালে বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের দুর্গম আন্ধারী এলাকায় এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১৫টি অব্যবহৃত পুকুর ১২ বছরের জন্য ইজারা নেন। অব্যবহৃত এসব পুকুর সংস্কার করে মাছের পোনা ছাড়েন তিনি। পুকুর পাড়ে পেঁপে, কলাসহ বিভিন্ন শাকসবজিও লাগান।

খামারের নাম দেন আন্ধারী অ্যাগ্রো ফার্ম। খুব দ্রুত আসে সাফল্য। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় মাছ চাষে বিশেষ অবদান রাখার জন্য এ বছর জাতীয় মৎস্য পুরস্কারের রৌপ্য পদক পান। গত ২০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকায় এই পুরস্কার প্রদান করেন।

খামারের পেছনে ২০১১ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন তিনি। এর মধ্যে ২০ লাখ টাকার মতো ঋণ আছে তাঁর। প্রতি তিন মাস অন্তর পুকুর থেকে মাছ তুলে বিক্রি করেন তিনি। খামারে কর্মচারী আছেন চারজন। এ ছাড়া অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করেন আরও ১০ থেকে ১২ জন।

জাহাঙ্গীরের খামারের গিয়ে দেখা যায় শ্রমিকদের সঙ্গে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তিনি। কখনো পুকুরে মাছের খাবার দিচ্ছেন, আবার কখনো ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন পেঁপেগাছের যত্ন নিতে। এসব পুকুরে রয়েছে রুই, কাতলা, মৃগেল, তেলাপিয়া, কই, মাগুর, সরপুঁটি, কার্প,
গ্রাসকার্প ইত্যাদি প্রজাতির মাছ। প্রতিটি পুকুর পাড়েই রয়েছে রেড লেডি জাতের পেঁপে ও কলাগাছ।

জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, শুরুর ছয় মাস পর থেকেই মাছ বিক্রি শুরু করেন তিনি। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করছেন। ফলে মাছের বৃদ্ধিও ভালো হচ্ছে। বর্তমানে বছরে তিনবার প্রায় ৫০ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করেন। খরচ বাদে ১০ লাখ টাকার মতো আয় হয় তাঁর। এ ছাড়া প্রতি সপ্তাহে প্রায় দেড় হাজার কেজি পেঁপে বিক্রি করে মাসে ৭০ হাজার টাকার মতো আয় করেন।

লোহাগাড়ার পাইকারি মাছ ব্যবসায়ী মো. আখতার হোসেন আন্ধারী অ্যাগ্রো ফার্ম থেকে প্রতি চার মাস অন্তর ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার মাছ কেনেন। তিনি বলেন, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করায় জাহাঙ্গীরের খামারের মাছের গুণগত মান যেমন ভালো তেমনি উৎপাদনও অনেক বেশী।

লামা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. রাশেদ পারভেজ জানান, প্রযুক্তিনির্ভর মাছ চাষ করে জাহাঙ্গীর পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁকে দেখে এ এলাকার অনেকে এ ধরনের মাছ চাষে উৎসাহিত হয়েছেন। এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা জাহাঙ্গীরের স্বপ্ন খামার আরও বড় করার। দেশের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বাইরেও যাবে তাঁর খামারের মাছ। তৈরি করবে নতুন কর্মসংস্থান।

তথ্যসূত্র: প্রথমআলো ডটকম।




আরো পড়ুন




© All rights reserved © 2019 Business Studio
Theme Developed BY Desig Host BD