1. info@businessstdiobd.top : admin :
রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ০৩:৩১ পূর্বাহ্ন




ফ্ল্যাটের দাম বর্গফুটে ২০০ টাকা বাড়বে: রিহ্যাব!

নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধির ফলে ফ্ল্যাটের দাম প্রতি বর্গফুটে ২০০ টাকা করে বাড়বে বলে জানিয়েছে আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। একই কারণে অনেক ফ্ল্যাট হস্তান্তর অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে বলেও জানান তারা। জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাবের পক্ষ থেকে এমন দাবি করা হয়।

এতে রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন বলেন, বর্তমানে আবাসন খাতের প্রধান উপকরণ ৬০ গ্রেডের রডের প্রতি টনের বাজার মূল্য প্রায় ৬৫ থেকে ৬৮ হাজার টাকা এবং ৪০ গ্রেডের রডের বাজার মূল্য ৫৩ থেকে ৫৬ হাজার টাকা। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) হিসাবেও এক সপ্তাহ আগে ৬০ গ্রেডের রডের বাজার মূল্য ছিল ৫৯ থেকে ৬০ হাজার টাকা এবং ৪০ গ্রেডের রডের বাজার মূল্য ৫০ থেকে ৫১ হাজার টাকা। আর এক বছর আগে ৬০ গ্রেডের রডের বাজার মূল্য ছিল ৫২ থেকে ৫৩ হাজার এবং ৪০ গ্রেডের রডের বাজার মূল্য ৪২ থেকে ৪৩ হাজার টাকা ছিল। অর্থাৎ এক বছরে রডের বাজার মূল্য প্রতি টনে বেড়েছে ২৩ শতাংশ। একই সঙ্গে বিভিন্ন কোম্পানির সিমেন্টের দাম বেড়েছে বস্তাপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং ইটের দাম বেড়েছে প্রতি হাজারে এক হাজার টাকা।

তিনি বলেন, ছয় মাস আগে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রতিবস্তা সিমেন্ট বিক্রি হতো ৩৬০ থেকে ৩৯০ টাকায়। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৪২০ থেকে ৪৬০ টাকায়। এই সময়ে সিমেন্টের ওপর কোনো ধরনের চার্জ বা কর আরোপ করা হয়নি, বাড়েনি কাঁচামালের দাম। তাহলে এই দাম বৃদ্ধি কেন? এটা আবাসন শিল্প তথা নির্মাণ খাতের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

আলমগীর শামসুল আলামিন বলেন, এ খাত যখন ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, সেই মুহূর্তে নির্মাণ উপকরণের দাম বৃদ্ধিতে নির্মাণকাজ গতিহীন হয়ে পড়বে। নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকেই ইতোমধ্যে নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে চাচ্ছেন। ফলে যথাসময়ে ফ্ল্যাট হস্তান্তর অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। এতে দুর্ভোগে পড়বেন চুক্তিবদ্ধ ক্রেতারা।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সময় সারা দেশে নানা ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় রড, সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল এবং পাথর আমদানি বেড়েছে। বর্তমানে রড তৈরির বিভিন্ন উপাদান আমদানিতে নানা ধরনের কর দিতে হচ্ছে। রড তৈরির প্রধান কাঁচামাল বিলেতে আরডি ২০ শতাংশ, প্রতি টনে এআইটি ৮০০ টাকা, এটিভি ৪ শতাংশ এবং ভ্যাট দিতে হচ্ছে ১৫ শতাংশ। এ ছাড়া রড তৈরির আরেক অন্যতম উপাদান স্ক্র্যাপে প্রতিটনে এআইটি ৮০০ টাকা, সিডি ১ হাজার ৫০০ টাকা, এটিভি রয়েছে ৪ শতাংশ। অন্যদিকে সিমেন্ট তৈরির উপাদান ক্লিংকার আমদানিতে এআইটি ৫ শতাংশ, এটিভি ৪ শতাংশ, ভ্যাট ১৫ শতাংশ এবং সিডি ৭৫০ টাকা প্রতি টনে দিতে হয়। পাথর আমদানিতে নানা ধরনের কর দিতে হচ্ছে ৭০ শতাংশ।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বর্তমানে পাথর প্রায় পুরাটাই আমদানি নির্ভর। দেশে আগে যে পরিমাণ পাথর উত্তোলন হতো তা পরিবেশবাদীদের আপত্তির কারণে প্রায় বন্ধ রয়েছে। নিত্যপণ্য না হওয়ার কারণে বন্দরে দিনের পর দিন পাথরের জাহাজ আটকা পড়ে থাকে। এই বাড়তি আমদানি ব্যয় সবশেষে গিয়ে পড়ে ক্রেতার ওপর।

আলমগীর শামসুল বলেন, আমরা চাই সরকার এই আবাসন শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রড, সিমেন্ট, পাথরসহ বিভিন্ন সমিতির সকলকে নিয়ে একটি মতবিনিময় করে উদ্ভুত সমস্যার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুক। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- রিহ্যাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি নুরন্নবী চৌধুরী শাওন, সহ-সভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, পরিচালক কামাল মাহমুদ প্রমুখ।

তথ্যসূত্র: অর্থসূচক ডটকম।




আরো পড়ুন




© All rights reserved © 2019 Business Studio
Theme Developed BY Desig Host BD