1. info@businessstdiobd.top : admin :
রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ০৩:০০ অপরাহ্ন

মাইগ্রেনের ব্যথা! প্রতিকার কি?

মাইগ্রেন মানেই হলো ‘আধ কপালি’ ব্যথা, অর্থাৎ, মাথার একপাশে ব্যথা। এই ব্যথা কোনো যে সে ব্যথা না, যার ব্যথা হয় একমাত্র সেই বোঝে এর তীব্রতা কেমন হয়। এই তীব্র ব্যথার তেমন কোনো স্থায়ী চিকিৎসা বা সমাধান নেই বললেই চলে। তবে চাইলেই এই রোগকে কিছুটা এড়িয়ে চলা যায়।

কেন হয় মাইগ্রেন: গবেষণায় প্রমাণিত, শতকরা ১০ জনের মধ্যে মাইগ্রেনের সমস্যা রয়েছে। মাইগ্রেনের একদম কোনো সঠিক কারণ নির্দিষ্ট নেই। তবে অনেক কারণ আলাদা আলাদাভাবে চিহ্নিত করা যায়। যেমন-

১. এই রোগটি ‘জেনেটিক’ বলে মনে করা হয়। পরিবারের কারো মাইগ্রেনের সমস্যা থাকলেই পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে এই রোগ হওয়ার প্রবণতা থাকে। ২. আবার আবহাওয়া বদলের জন্যেও এই রোগ হতে পারে। ৩. ক্রমাগত দুশ্চিন্তা, টেনশন থেকে মাইগ্রেনের শিকার হন অনেকে। ৪. মস্তিষ্কে বিভিন্ন রাসায়নিকের পরিমাণ ওঠানামাও এই রোগের জন্য দায়ী। ৫. বিভিন্ন উদ্দীপনা এক স্নায়ু থেকে অন্য স্নায়ুতে পৌঁছতে এই রাসায়নিকগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেগুলোর ভারসাম্য নষ্ট হলে মাইগ্রেন হতে পারে। ৬. গ্যাস-অম্বল থেকেও এই সমস্যা হতে পারে। দীর্ঘদিন এই সমস্যা চলতে থাকলে অনেক সময় মাইগ্রেনের ব্যথা হয়। ৭. বিভিন্ন ধরণের ওষুধ থেকেও এই রোগ হতে পারে।

কোন ওষুধ থেকে মাইগ্রেন: যৌন সমস্যার ওষুধ থেকে অনেক সময় মাইগ্রেন হতে পারে। এছাড়া গর্ভনিরোধক ওষুধ দীর্ঘদিন খেলেও অনেক সময় মাইগ্রেন হতে শুরু করে। মূলত এই ওষুধগুলোর প্রভাবে শরীরে রাসায়নিকের ভারসাম্য কিছুটা নষ্ট হয়। সে কারণে মস্তিষ্কে তার প্রভাব পড়ে। তাই এই ওষুধগুলি খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ঘুমের সমস্যা থেকে মাইগ্রেন: পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মাইগ্রেনের ব্যথা হয়। কারণ শরীর ঠিক রাখতে যথাযথ বিশ্রাম দরকার। আর ঘুমের মাধ্যমেই আমাদের সম্পূর্ণ বিশ্রাম হয়। যাদের নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম হয়না, তাদের মাইগ্রেনের দিনের পর দিন ঘুমের ব্যাঘাত হলে মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হতে পারে।

মাইগ্রেনের উপসর্গ: মাইগ্রেনের কিছু উপসর্গ থাকে। মাইগ্রেন হলে মাথার একদিক প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হবে। ব্যথা ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত থাকতে পারে। কারও বমি ভাব হয় বা বমি হতেও পারে। মাইগ্রেনের ব্যথা হলে আলোর দিকে তাকাতে খুব অসহ্য লাগে, চোখে ব্যথা করে। দিনের বেলায় আলো, রাতে লাইটের আলো সহ্য করা যায়না। চোখে আলোর ঝলকানি দেখা যায়। এমনটা হলে স্বাভাবিক কাজকর্ম করার মানসিকতা থাকেনা, মেজাজ খিটমিটে হয়ে যায়।

সাবধানতা: সবার আগে নিয়মিত এবং পর্যাপ্ত ঘুমের দরকার। একদম সময়মতো ঘুমাতে যাওয়া, এবং সময়মতো সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করতে হবে।মাইগ্রেনের রোগীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার, টিভি দেখা, দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারে কাজ করলে ওই সমস্যা বাড়তে পারে। সে কারণে এ সব ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়।

এসি ঘরে থাকা, আবার মাঝে মধ্যে বাইরে গরমের মধ্যে বের হওয়া- এ ধরনের অভ্যাস বা পরিস্থিতির কারণেও মাইগ্রেনের ব্যথা হয়। অতিরিক্ত ঘুরে বেড়ানো বা লম্বা ভ্রমণের ফলে মাইগ্রেন হতে পারে। অর্থাৎ শরীরের উপর অতিরিক্ত ধকল থেকে মাইগ্রেনের প্রবণতা দেখা দেয়। সূর্যের আলোতে যাদের মাইগ্রেনের ব্যথা হয়, তারা বাইরে গেলে সানগ্লাস ব্যবহার করা উচিৎ।

মাইগ্রেনের প্রতিরোধী খাবার: ম্যাগনেশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার। যেমন ঢেঁকি ছাঁটা চালের ভাত, আলু ও বার্লি মাইগ্রেন প্রতিরোধক। বিভিন্ন ফল, বিশেষ করে খেজুর ও ডুমুর ব্যথা উপশম করে। সবুজ, হলুদ ও কমলা রঙের শাকসবজি নিয়মিত খেলে উপকার হয়। ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি মাইগ্রেন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। তিল, আটা ও বিট ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম রয়েছে। আদার টুকরো বা রস দিনে দুবার জিঞ্চার পাউডার পানিতে মিশিয়ে খেতে পারেন।

কী ধরনের খাবার এড়িয়ে চলবেন: চা, কফি ও কোমলপানীয়, চকলেট, আইসক্রিম, দই, দুধ, মাখন, টমেটো ও টক জাতীয় ফল খাবেন না। গম জাতীয় খাবার, যেমন রুটি, পাস্তা, ব্রেড ইত্যাদি। আপেল, কলা ও চিনাবাদাম, পেঁয়াজ।

তথ্যসূত্র: বাংলা ইনসাইডার

আরো পড়ুন
© All rights reserved © 2019 Business Studio
Theme Developed BY Desig Host BD