1. info@businessstdiobd.top : admin :
বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১, ১০:৫০ অপরাহ্ন

সফল কৃষি উদ্যোক্তার গল্প!

ভাগ্য বিধাতা সর্বদাই কর্মঠ আর সাহসীদের পক্ষে থাকেন। চিরন্তন এই বাণীকে প্রমাণ করে সফলতার সিঁড়িতে আগ্রসর হওয়ার দম্য ইচ্ছাশক্তিতে এগিয়ে চলছে ২৮ বছর বয়সী যুবক সাজু মোল্লা। রাজধানীর ভাসানটেক এলাকার এই যুবক নিজ উদ্যোগে ছাগলের খামার, কৃষিকাজ ও বিভিন্ন ফলের বাগান করে আজ সাবলম্বী।

নিজে শিক্ষিত না হয়ে ও স্ত্রী শারমিন আক্তারকে অনার্স পর্যন্ত পড়িয়েছেন। ভাসানটেকের একটি স্কুলের শিক্ষাকতা করার পাশাপাশি স্বামীর ফলের বাগানের দেখাশুনাও করেন শারমিন। পড়াশোনার গণ্ডি পার না করেও আজ সাবলম্বীদের কাতারে নিজের নাম লিখিয়েছেন সাজু মোল্লা।

কিভাবে এ পথে আসা? সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে উচ্চ ডিগ্রি নিয়ে আর দশজনের মতো তিনিও পারতেন কোনো প্রতিষ্ঠানে গৎবাঁধা চাকরির জীবন বেছে নিতে। কিন্তু না, কিছু মানুষ ঝুঁকি নিতে পছন্দ করেন। নিজের উদ্যম, সাহস আর সৃষ্টিশীলতা দিয়ে তৈরি করেন নতুন পথ। সাজু মোল্লাও এ গোত্রেরই।

দরিদ্র পরিবারে জন্ম হয়েছে বলেই মাটি নিবিড় টান ছেলে বেলা থেকেই শাক-সবজি গাছ-গাছালির প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছিল সাজুকে। সেখান থেকেই তার এ আগ্রহ। নিজের ফসলের শাক-সবজি বিক্রি করে কিছু মূলধন জমিয়ে বাবার কাছে থেকে ৪০ হাজার টাকা নিয়ে খামার ব্যবসা শুরু করেন ২০ বছর বয়সে। দেশীয় ছাগলের খামার না করে পাঠা ছাগলের খামারেই বেশি উৎসাহ ছিল তার। তার খামারের এক একটি পাঠা হিন্দু ধর্মালম্বীদের মনসা পূজাতে দেড় থেকে প্রায় ২ লক্ষ টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে।

শুধু তাই নয় ছাগলে খাবারের জন্য খরচ কমাতে তিনি নিজেই রপ্ত করেছেন হাইড্রোফনিক পদ্ধতি। সচারাচর এ পদ্ধতি পাশ্চাত্যে ব্যবহৃত হলেও বাংলাদেশেও এর প্রসার ইদানিং বেড়ে চলেছে। হাইড্রোফনিক পদ্ধতি হলো ট্রেতে গাছের প্রয়োজনীয় খাদ্যোপাদানসমূহ পরিমিত মাত্রায় সরবরাহ করে সরাসরি ফসল উৎপাদন করা হয়। এতে পাম্প বা পানি সঞ্চালনের প্রয়োজন হয় না।

এ প্রসঙ্গে সাজু জানান, আমি এ পদ্ধতিগুলো ইউটিউবের ভিডিও দেখে রপ্ত করেছি। হাইড্রোফনিক পদ্ধতি খুবই সহজ লভ্য। আমি মূলত এভাবে ভুট্টার চাষ করে থাকি। এতে খোলা জায়গায় অনেক কম খরচে ছাগলে বা গরুর খাবার উৎপাদন করা যায়। বৈজ্ঞানিক এ উপায় অবলম্বন করে আমার খরচ বাঁচানোর পাশাপাশি, আমার খামারের ছাগলগুলোও পরিমিত মাত্রায় খাদ্যোপাদানসমূহ পাচ্ছে।

এছাড়া শাক-সবজির পাশাপাশি সাজু তার জমিতে গবাদিপুশির খাদ্যের জন্য রোপণ করেছেন নিপেলিয়ন গাছ। ভবিষ্যতে নিজের খামারকে বড় করার স্বপ্ন দেখেন সাজু, ছাগলের পাশাপাশি গরুর খামার করা তার স্বপ্ন। এজন্য সরকার, কৃষি ব্যাংক ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন ভাসানটেকের এই যুবক। তাদের শুভদৃষ্টি পারে তরুণ এই উদ্যোক্তার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে। তথ্যসূত্র: ইনকিলাব।

আরো পড়ুন
© All rights reserved © 2019 Business Studio
Theme Developed BY Desig Host BD