1. info@businessstdiobd.top : admin :
  2. 123@abc.com : itsme :
মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৫০ অপরাহ্ন

সিলিকন ভ্যালিকে টেক্কা দেবে চীন!

প্রযুক্তি দুনিয়ায় সুপার পাওয়ার হিসেবে চীনের উত্থান চমকে দেওয়ার মতোই। কিন্তু চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের ‘সিলিকন ভ্যালি’কে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবে কি? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে প্রথমেই আপনাকে জেনে রাখতে হবে, চীনে এখনকার প্রযুক্তি জগতের বড় দুই প্রতিষ্ঠান গুগল আর ফেসবুক নেই। কিন্তু সেখানে আছে হুয়াওয়ে, বাইদু, টেনসেন্ট, আলিবাবার মতো প্রতিষ্ঠান।

চীনের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর উত্থান গত নব্বই দশকের শেষের দিক থেকে। তখন থেকে দ্রুত এগিয়েছে দেশটির তথ্যপ্রযুক্তি খাত। কিছু ভাষ্যকার দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির বা তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বৈশ্বিক নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রকে ইন্টারনেট মোবাইল ও এআই সফটওয়্যার খাতের একক শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু চীন থেকে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বী তৈরি হচ্ছে।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে বিশ্বের শীর্ষ ২০টি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ৯টি এখন চীনে। ২০১৭ সালে আলিবাবা ও টেনসেন্টের বাজার মূলধন দ্বিগুণ হয়েছে, যা ফেসবুক ও অ্যালফাবেটের সঙ্গে তুলনীয়। চীনের ব্যাপক জনগোষ্ঠী এর বড় সুবিধা। এর বাইরে এটি স্মার্টফোনের একটি বড় বাজার। এ বাজারে ঢোকার জন্য মার্কিন প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

যদি হার্ডওয়্যার খাত বিবেচনায় ধরা হয়, চীনের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো অ্যাপল ও স্যামসাংয়ের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। এখনো স্মার্টফোনের বাজারে স্যামসাং শীর্ষে থাকলেও হুয়াওয়ে তাদের ঘাড়ের ওপর নিশ্বাস ফেলছে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টার পয়েন্ট রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে স্মার্টফোনের বাজারের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান স্যামসাং।

বাজারে ১৯ শতাংশ দখল রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। বাজারের ১৩ শতাংশ দখল নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে হুয়াওয়ে। শীর্ষ পাঁচ স্মার্টফোন নির্মাতার মধ্যে চীনের শাওমি ও অপো স্থান করে নিয়েছে। চীনের হুয়াওয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, তাঁরা স্মার্টফোন বাজারে নতুন উদ্ভাবনে জোর দিচ্ছেন। স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে বাজারের শীর্ষে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে তাঁদের।

প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে চীনের প্রতিষ্ঠানগুলো বড় হয়ে উঠছে? এর উত্তর খুঁজতে গেলে চীনের স্টার্টআপ কালচার বা উদ্যোক্তা সংস্কৃতির ওপর চোখ রাখতে হবে। অধিকাংশ চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কিন্তু মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নকল করে তৈরি। কিন্তু তারা নকল করে শুরু করলেও এখন শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। নতুন নতুন বাজারে সফলতা পেয়েছে হুয়াওয়ে।

আফ্রিকার অনেক দেশেও বাজার পেয়েছে চায়নিজ ফোন। বাজারে অনেক দামি স্মার্টফোনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারে—এমন সুবিধাযুক্ত স্মার্টফোন অনেকটাই সাশ্রয়ী দামে বাজারে আনে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো। হুয়াওয়ের কর্মকর্তারা বলেন, তাঁরা কম দামে অনেক মানসম্মত ফোন তৈরি করে বাজারে আনেন। এ ক্ষেত্রে মান ও উদ্ভাবনকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন তাঁরা। ইতিমধ্যে এশিয়ার বাজারে হুয়াওয়ে ভালো অবস্থানে চলে এসেছে।

চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাফল্যের মূলমন্ত্র হচ্ছে স্থানীয় বাজার। চীনের বাজার এখন হুয়াওয়ে আর অপোর দখলে। অন্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ে স্থানীয় নির্মাতাদের পণ্যে আস্থা রাখেন চীনা ক্রেতারা। অবশ্য চীনে আইফোন বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু সেখানে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান স্যামসাংয়ের অবস্থা এখন খুব বেশি ভালো নেই।

চীনা প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা মনে করেন, চীনের প্রযুক্তিশিল্পের বিকাশে বিদেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে গুরুত্ব না দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এতে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ে এবং তাদের পণ্যের মান উন্নত হয়। বর্তমানে চীন থেকে একেবারে কম দামের এবং অনেক বেশি দামের উভয় রকমের পণ্যই তৈরি হয়।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা মনে করেন, আগামী এক দশকের মধ্যেই প্রযুক্তি দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সমতুল্য হবে চীন। কয়েক দশক আগে সিলিকন ভ্যালির সঙ্গে চীনের তুলনা করলে অনেকেই হাসাহাসি করতেন। অনেকেই এ খাতের উদ্ভাবন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু চীনের উদ্যোক্তারা তাদের ভুল প্রমাণ করেছেন।

চীনের প্রযুক্তিশিল্পে কিছুটা বাধা আছে। এখানে হুট করে সফল হওয়া যায় না। এটাকে অনেকটাই কলোসিয়ামের সঙ্গে তুলনা করা যায়, যেখানে কেবল বিজয়ীরা টিকে থাকে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ভদ্রলোক চেহারা দেখা যায়। একজন আরেকজনের গায়ে লাগতে চায় না। কিন্তু চীনের প্রতিযোগিতা তীব্র। তবে সিলিকন ভ্যালির চেয়ে চীনের উদ্যোগগুলোতে বিনিয়োগ চ্যালেঞ্জ বেশি।

এ ছাড়া প্রযুক্তি দুনিয়ায় তাক লাগানো কোনো পণ্য চীন থেকে উঠে আসা নিয়ে কিছুটা সংশয় রয়েছে। তবে আশার কথা হচ্ছে, এখানকার প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত ছুটছে। বর্তমানে বাজারে থাকা পণ্য ও সেবাগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারে—এমন পণ্য তৈরিতে ছুটছে তারা। তাই সেখানে উন্নত পণ্য দেখা যাচ্ছে। তবে যুগান্তকারী পরবর্তী পণ্যটি চীন থেকে আসবে কি না, সে প্রশ্ন উঠছে।

এ প্রশ্নের উত্তর অবশ্য দিয়েছেন চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের প্রধান নির্বাহী রিচার্ড ইউ। তিনি বলেন, উদ্ভাবনী প্রযুক্তিতে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছেন। হুয়াওয়ের নতুন স্মার্টফোন মেট ২০ তার উদাহরণ। এর বাইরে নতুন নতুন আইওটি পণ্য ও নেটওয়ার্ক–প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন তাঁরা। ৫জি নেটওয়ার্ক নিয়ে তাঁদের কাজ চলছে।

চীনের প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র এখন আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এ বছরে চীন সরকার ঘোষণা দিয়েছে, ২০৩০ সাল নাগাদ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় নেতৃত্ব দেবে চীন। গত তিন বছরে চীনের উদ্যোক্তারা এখানে ৪৮০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ পেয়েছে। চীনের নিরাপত্তাসেবা ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও এ খাতে আগ্রহ দেখানো হয়েছে।

চীন স্বয়ংক্রিয় বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ও অস্ত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগে আগ্রহী। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষ থেকে বাইদু, আলিবাবা ও টেনসেন্টের মতো প্রতিষ্ঠাগুলোকে এআই শিল্প এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছে। তারা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে। বেইজিংয়ে ২১০ কোটি মার্কিন ডলার খরচ করে এআই শিল্পপার্ক গড়ার ঘোষণাও দিয়েছে চীন।

চীনে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা অর্জন করা সহজ হয়, কারণ সেখানে নীতিমালা প্রয়োগ করা কঠিন কিছু নয়। গবেষণার নৈতিকতার প্রশ্নে পশ্চিমাদের চেয়ে চীনাদের পরিস্থিতি ভিন্ন। তাদের প্রাইভেসি ও ব্যক্তিগত অধিকারের মতো বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন ওঠার সম্ভাবনা কম।

চীনাদের প্রযুক্তি পণ্য ও সেবা উদ্ভাবনের তোড়জোড় ও বৈশ্বিক বিস্তারের বিষয়টি এখন লক্ষণীয়। সবকিছুতেই পশ্চিমাদের চেয়ে এগিয়ে যেতে চাইছে চীন। ইতিমধ্যে চীনের প্রযুক্তিপণ্যে অনেকে দেশের বাজার ছেয়ে আছে। কম খরচে চীনা প্রযুক্তি হাতের নাগালে থাকায় ভালো-মন্দের বিবেচনা রেখে অনেকেই হামলে পড়ছেন।

আরো পড়ুন
© All rights reserved © 2019 Business Studio
Theme Developed BY Desig Host BD