1. info@businessstdiobd.top : admin :
শনিবার, ০৬ মার্চ ২০২১, ০১:৪০ পূর্বাহ্ন




অল্প পুঁজিতে ৬ ধরনের কাপড়ের ব্যবসার আইডিয়া!

গতানুগতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে চাকরির আশায় বসে না থেকে ভিন্নধর্মী পেশা বা ব্যবসায় নিয়োজিত হলে খুব সহজেই উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়া যায়। আপনি চাইলে স্বল্প পুঁজিতে পোশাক শিল্পে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে পারেন। পোশাক শিল্প বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত, দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসা। নতুন উদ্যোক্তারা পেশা হিসাবে এই লাভজনক ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

আপনি যদি পোশাক শিল্পে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাহলে এই লেখাটি আপনার জন্য। কারণ আজকের নিবন্ধে আমরা আলোচনা করব এমন ৬টি পোশাক ব্যবসায়ের ধারনা নিয়ে, যে ব্যবসায়গুলো স্বল্প পুঁজি দিয়ে সহজেই শুরু করা যায়।

১। গজ কাপড়ের ব্যবসা
সব শ্রেণির মানুষের মনে রয়েছে গজ কাপড়ের প্রতি আলাদা এক ভালো লাগা। অনেকেই রেডিমেড কাপড় কেনার পরিবর্তে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী মাপ ও ডিজাইন দিয়ে পোশাক তৈরি করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। এছাড়াও আমাদের দেশের গজ কাপড় প্রতি বছরই প্রচুর পরিমাণে বিদেশের বহু দেশে রপ্তানি হয়ে থাকে। তাই ব্যবসার দৃষ্টিকোণ থেকে গজ কাপড়ের ব্যবসা হতে পারে একটি সৃজনশীল ও কার্যকরী ব্যবসা ক্ষেত্র।

এই ব্যবসাটি করতে খুব বেশি মূলধনের প্রয়োজন হয় না। দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকারি মার্কেট থেকে কাপড় কিনে আপনি স্থানীয় মার্কেট ও বাজারের কাপড়ের দোকান গুলোতে সরবরাহ করতে পারবেন। গ্রাহকদের চাহিদা বিবেচনায় বিভিন্ন মৌসুমে বিভিন্ন ধরনের গজ কাপড় সরবরাহ করতে পারেন। যেমন: গ্রীষ্মকালে সুতি কাপড় এবং শীতকালে ভারি কাপড় সরবরাহ করতে পারেন।

২। ভাড়া পোশাকের ব্যবসা
পোশাক ভাড়া দেয়ার ব্যবসায়ও বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়। বিশেষ করে ছেলেদের বিয়ের পোশাক যেমন, শেরওয়ানি, পাগড়ি, নাগরা জুতা ইত্যাদি একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভাড়া দেয়া হয়। যেহেতু এসব পোশাক পরবর্তীতে বেশি ব্যবহৃত হয় না, তাই অনেকেই এত দাম দিয়ে না কিনে ভাড়ায় পোশাক নিয়ে থাকেন।

এসব ব্যবসায় সাধারণত জামানত নিয়ে পোশাক ভাড়া দেয়া হয়। ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা জামানত হিসেবে রাখা হয়। এবং ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে এসব পোশাক আবার ফেরত দেয়ার নিয়ম থাকে। আপনি চাইলে ছোট বিনিয়োগ দিয়ে এই ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

৩। পোশাকে এমব্রয়ডারির ব্যবসা
এমব্রয়ডারি হচ্ছে কাপড়ের উপর নকশা বা বিশেষ কোন ডিজাইন সুচ সুতা অথবা মেশিনের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা। পোশাকের ধরণ ও অন্যান্য সামগ্রীর বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন নকশা এঁকে বিভিন্ন রঙের সুতা দিয়ে সুঁচ অথবা মেশিনের সাহায্যে ফুটিয়ে তোলা হয়। এমব্রয়ডারির ব্যবসায় করতে পুঁজির পরিমাণ খুব বেশি লাগে না। মার্কেটে চাহিদাও আছে প্রচুর।

৪। পোশাকে কারচুপির ব্যবসা
কারচুপির মাধ্যমে পোশাকে বাহারি রঙের নান্দনিক পাথর, জরি, চুমকি বসিয়ে নকশা তৈরি করা হয়। ওড়না, জামা অথবা শাড়িতে কারচুপির কাজ থাকলে দাম বেড়ে যায় বহু গুণ। হাতের সুনিপুণ নকশায় কারচুপির মাধ্যমে একটি সাধারণ পোশাককে অসাধারণ করে তোলা যায়। কারচুপির কাজে কোন যান্ত্রিকতা নেই, পুরোটাই হাতের কারুকাজ। আপনি চাইলে স্বল্প পুঁজি দিয়ে এই ব্যবসায় শুরু করতে পারেন।

৫। ব্লক ও বাটিকের ব্যবসা
অল্প পুঁজিতে ও ঘরে বসেই এই ব্যবসাটি শুরু করা যায় বলে অনেক উদ্যোক্তাই এই ব্যবসাটি শুরু করতে আগ্রহী। আপনার নিকটস্থ স্থানীয় বাজার বা মার্কেটে ছোট একটি দোকানে এই ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন। আবার চাইলে আপনার বাড়িতেও এই ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন। নান্দনিক পোশাক হিসেবে বিভিন্ন ব্লক ও বাটিকের কাজ করা পোশাকের চাহিদা প্রচুর।

এই ব্যবসা শুরু করার আগে কাজ শিখে নিতে হবে। পোশাকের ধরণ অনুযায়ী ব্লক ও বাটিকের নকশা নির্বাচন করতে হবে। খুব সহজেই কাপড়ে ব্লকের কাজ করা যায়। ডাইসের উপর রঙ রেখে কাপড়টিকে টেবিলের উপর রেখে ডাইস দ্বারা কাপড়ের নির্দিষ্ট স্থানে চাপ দিলেই ব্লক প্রিন্ট হয়ে যায়।

আর বাটিকের কাজ করতে সুতা দিয়ে কাপড় বেধে নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাপড় রঙের পানিতে চুবিয়ে নিতে হয়। এক্ষেত্রে অনেক সময় মোম ব্যবহার করার প্রয়োজনও হয়। এই ভাবে কাপড়ে ব্লক ও বাটিকের কাজ করা যায়। এই ব্যবসাটি করা খুব সহজ ও এর চাহিদাও ব্যাপক৷

এমন না যে, আপনি শুধু পোশাকেই ব্লক ও বাটিকের কাজ করতে পারবেন। এছাড়াও বিছানার চাদর, বালিশের কভার, ব্যাগ ইত্যাদি যেকোনো কাপড়েই ব্লক প্রিন্ট ও বাটিকের কাজ করা যায়৷

আপনি চাইলে এমব্রয়ডারি, কারচুপি, ব্লক ও বাটিকের উপর প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। এসব বিষয়ে বেশ কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ১০০০-৫০০০ টাকার বিনিময়ে এসব প্রতিষ্ঠানে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। এছাড়াও আপনি চাইলে অনলাইনেও প্রশিক্ষণ নিতে পারেন।

এমব্রয়ডারি, কারচুপি, ব্লক ও বাটিকের ব্যবসায় জন্য প্রয়োজন দক্ষ ২-৩ জন কর্মচারী, যারা মেশিনে কাপড় তৈরি ও সেলাই করবেন। এছাড়াও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস যেমন: টেইলারিং মেশিন, কাঠের ডাইস, রং, বিভিন্ন রংয়ের সুতা, সুই ও সবশেষে কাপড় লাগবে।

৬। বুটিক হাউস
সৃজনশীল মানুষের জন্য বুটিক ব্যবসা হতে পারে একটি আদর্শ। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বুটিক হাউসের ব্যবসার চাহিদা ব্যাপক। ক্রমেই প্রসারিত হচ্ছে এ সেক্টরটি। বুটিক হাউসকে ব্যবসা হিসেবে গ্রহণ করে যে কেউ বদলাতে পারেন নিজের ভাগ্য। ছোটখাটো বুটিকের জন্য প্রাথমিক পুঁজি ৫০-৬০ হাজার টাকার মতো লাগবে।

বর্তমানে আমাদের দেশে এবং দেশের বাইরে বুটিক হাউসের পোশাকের যথেষ্ট কদর রয়েছে। তবে সেটি নির্ভর করে পণ্যের ডিজাইন, কাপড়ের সেলাই, গুণগত মান, আধুনিকতা ও ভিন্নধর্মী উপস্থাপনার ওপর। ক্রেতাদের সন্তুষ্টি এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে আপনার পণ্যটিও ভালো চলবে।

এখন হলো অনলাইনের যুগ। এসব ব্যবসায় আপনি চাইলে ঘরে বসেই নিজের ই-কমার্স সাইট সাজিয়ে করতে পারেন। উপরোক্ত ব্যবসাগুলো শুরু করার জন্য বিশেষ কোনো যোগ্যতার ও বিশাল অংকের বিনিয়োগের প্রয়োজন হয় না। আধুনিক ডিজাইন আইডিয়া ও সৃজনশীলতাই এই ব্যবসাটির প্রধান যোগ্যতা। আর শুধু মাত্র সততা ও নিষ্ঠাকে পুঁজি করে এই ব্যবসায় লাভবান ও সফল হতে পারেন। তথ্যসূত্র: ইয়ুথ কার্নিভাল।




আরো পড়ুন




© All rights reserved © 2019 Business Studio
Theme Developed BY Desig Host BD