1. info@businessstdiobd.top : admin :
সোমবার, ১৭ মে ২০২১, ০৭:২৯ পূর্বাহ্ন




১৩ কাজে কোটিপতি!

নিশ্চয় কখনো কখনো এই ইচ্ছাটা মনে জেঁকে বসে, আমি যদি কোটি টাকার মালিক হতে পারতাম। চাইলেই তো হবে না। কোটি টাকার মালিক হতে চাইলে বদলাতে হবে অভ্যাস। বর্তমানে যারা কোটিপতি তারা সবাই কোনো এক জায়গা থেকে শুরু করেছেন। বেশকিছু ভালো অভ্যাসই তাদের আজ কোটিপতি বানিয়েছে। আপনি চাইলে সেগুলো অনুসরণ করতে পারেন।

থমাস সি কার্লে নামে এক গবেষক ৫ বছর ১৭৭ জন কোটিপতির ওপর গবেষণা করে তাদের বেশকিছু অভ্যাস খুঁজে পেয়েছেন। জীবনের দুঃখ, কষ্ট, দারিদ্র্য, সুখ, মানসিক চাপ, ভালো বা খারাপ স্বাস্থ্য সবকিছুর পেছনেই অভ্যাস কাজ করে। তবে আশার কথা হলো সব অভ্যাসই পরিবর্তন করা যায়। কার্লের মতে, তাদের ভালো অভ্যাসের কারণেই তারা আজ মিলিয়নিয়ার বা কোটিপতি। কোটিপতির ১৩টি অভ্যাস নিম্নে তুলে ধরা হলো :

নিয়মিত পড়াশোনা : তারা বিনোদিত হওয়ার চেয়ে শিক্ষা লাভের জন্য পড়াশোনা করেন। ৮৮ শতাংশ মিলিয়নিয়ার প্রতিদিন ৩০ মিনিট বা তার বেশি স্বশিক্ষিত বা আত্ম উন্নয়নের জন্য পড়াশোনা করেন। তারা জ্ঞান অর্জনের জন্যই মূলত পড়াশোনা করেন। তারা মূলত সফল ব্যক্তিদের জীবনী, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং ইতিহাস এই ৩ ধরনের বই পড়েন বলে কার্লের গবেষণায় দেখা গেছে।

নিয়মিত ব্যায়াম: মিলিয়নিয়ারদের ৭৬ শতাংশ প্রতিদিন ৩০ মিনিট অ্যারোবিক ব্যায়াম করেন। অ্যারোবিক ব্যায়াম দৌড়ানো, জগিং, হাঁটাহাঁটি করা অথবা সাইকেল চালানোও হতে পারে। এই ব্যায়ামগুলো শরীরের পাশাপাশি ব্রেইনের জন্যও ভালো। ব্যায়াম করলে মস্তিষ্কের নিউরন সচল থাকে। গ্লুকোজের উৎপাদনও বাড়িয়ে দেয়। গ্লুকোজকে ব্রেইনের জ্বালানি বলা হয়। তাই ব্রেইনে আপনি যতই জ্বালানি দেবেন ততই আপনি স্মার্ট হয়ে উঠবেন।

সফল ব্যক্তিদের সঙ্গে উঠাবসা: কোটিপতিরা সব সময় সফল ব্যক্তিদের সঙ্গে চলাফেরা করেন। তারা সাধারণত লক্ষ্যে স্থির, আশাবাদী, উদ্যোমী ও ইতিবাচক ব্যক্তিত্বের মানুষের সঙ্গে মেশার চেষ্টা করেন।

লক্ষ্যে লেগে থাকা: মিলিয়নিয়ারদের আরেকটি ভালো অভ্যাস হলো তারা তাদের লক্ষ্যে লেগে থাকেন। কার্লের মতে, আপনার স্বপ্ন কী সেটা খুঁজে বের করুন। এরপর নিজেই একটা দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য ঠিক করুন। বাবা-মা বা অন্যের দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে নিজেই লক্ষ্য ঠিক করুন। সফল ব্যক্তিরা নিজেরাই নিজের লক্ষ্য ঠিক করেন এবং নিরলসভাবে এবং মনেপ্রাণে সেই লক্ষ্য পূরণে কাজ করে যান।

ঘুম থেকে সকালে ওঠা: গবেষণায় দেখা গেছে, ৫০ শতাংশ মিলিয়নিয়ার খুব সকালে ঘুম থেকে উঠেন। তারা সাধারণত কর্মঘণ্টা শুরুর ৩ ঘণ্টা আগেই ঘুম থেকে উঠেন। এতে করে তারা অনেক কাজ করতে পারেন। সকালে অফিসে যাওয়ার সময় ট্র্যাফিক জ্যামে পড়তে হয় না, সঠিক সময়ে অফিসে যাওয়া যায়, আবার বাচ্চাকে স্কুলে পৌঁছে দেওয়ারও সময় পান। এতে করে নিজের জীবনের ওপর একটা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা যায়। ফলে সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে মনে আত্মবিশ্বাস জন্মে।

আয়ের একাধিক উৎস: মিলিয়নিয়ারদের অর্থ উপার্জনের ক্ষেত্রে একাধিক উৎস থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, ৬৫ শতাংশ মিলিয়নিয়ার অর্থ উপার্জনের জন্য শুরুতেই কমপক্ষে তিনটি উৎসের উপর নির্ভর করেছেন। যেমন- ভূ-সম্পত্তির পাশাপশি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা, ব্যক্তিগত অথবা শেয়ারে ব্যবসা করা যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: অর্থ উপার্জনের ক্ষেত্রে প্রথমেই আপনাকে একজন বিশেষজ্ঞ খুঁজে বের করতে হবে। একজন সফল ব্যক্তির পরামর্শেই ভালো কিছু করতে পারেন। আপনার কোন কাজটি করা উচিত আর কোনটি করা ঠিক হবে না এমন পরামর্শই আপনাকে সাফল্যের দিকে নিয়ে যাবে। কারণ তাদের জীবনের সাফল্য, ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা থেকেই তারা পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

ইতিবাচক: দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য পেতে হলে আবশ্যই আপনার ইতিবাচক মানসিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে হবে। কার্লের গবেষণায় দেখা গেছে, ইতিবাচকতার কারণেই তারা আজ মিলিয়নিয়ার হতে পেরেছেন। তবে অনেকেই তাদের ইতিবাচক বা নেতিবাচক চিন্তা সম্পর্কে সচেতন নয়। সবসময় ইতিবাচক চিন্তা করতে হবে। এক্ষেত্রে সচেতনতাই মূল বিষয়।

নিজের দলে কাজ: সমাজে আমরা বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে থাকি। সেখানে আবার বিভিন্ন দলও তৈরি হয়। সমাজের এই বড় অংশ থেকে নিজেকে আলাদা করতে না পারার কারণেই অনেকেই সফল হতে পারেন না। সফল ব্যক্তিরা নিজেরাই একটি দল গঠন করে। সেই দলে থেকেই তারা কাজ করেন।

ভালো শিষ্টাচার: মিলিয়নিয়ারদের মধ্যে শিষ্টাচার মেনে চলার বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সাফল্য পেতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই শিষ্টাচার মেনে চলতে হবে। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান বিয়ে, জন্মদিন, দাওয়াত খেতে যাওয়া এগুলোতে অংশ নিতে হবে। সেখানে কেমন আচরণ করতে হবে তা জানতে হবে।

অন্যদের সাফল্যে সাহায্য: তারা অন্যের স্বপ্ন পূরণে এবং লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করে থাকেন। সফলকামী মানুষদের সহযোগিতায় একজন তার লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেন।

দিনে অন্তত ১৫-৩০ মিনিট চিন্তা করা: চিন্তাশীলতায় সাফল্যে চাবিকাঠি। গবেষণায় দেখা গেছে, সফল ব্যক্তিরা সকালে নির্জনে বসে নিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট চিন্তা করেন। কীভাবে ভালো ক্যারিয়ার গড়া যায়, কীভাবে আরো অর্থ উপার্জন করতে পারবে এসব বিষয় নিয়ে সাধারণত চিন্তা করে থাকেন।

কাজের প্রতিক্রিয়া চাওয়া : সমালোচনার ভয়ে আমরা অনেক সময় অন্যের কাছ থেকে কাজের প্রতিক্রিয়া জানতে চায় না। কিন্তু কাজটি সঠিক হচ্ছে কিনা সেটা জানার জন্য অবশ্যই অন্যের প্রতিক্রিয়া জানা দরকার। সমালোচনার মাধ্যমেই আপনি বুঝতে পারবেন কাজটি আপনার সঠিকভাবে এগুচ্ছে কি না। তথ্যসূত্র: পরিরবর্তন ডটকম।




আরো পড়ুন




© All rights reserved © 2019 Business Studio
Theme Developed BY Desig Host BD